রাজধানীর সামগ্রিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি এবং চিকিৎসাসেবা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে তিনি গুলশানের বাসভবন থেকে এ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে বের হন বলে জানিয়েছেন তাঁর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
হাসান শিপলু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও পরিচ্ছন্নতা অবস্থা কেমন তা দেখতে বাসা থেকে বেরিয়েছেন। তিনি ৯টা ১০ মিনিটে বাসা থেকে বের হন। প্রথমে যাচ্ছেন উত্তরার কুয়েত-মৈত্রী হসপাতালে। সেখানে তিনি সরেজমিন ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা দেখবেন।’ উপ-প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাড়াও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী বিশেষ অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান, যেখানে এডিস মশার প্রকোপ মোকাবিলায় দেশবাসীকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছিল।
দিনের শুরুতে রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী। একই সাথে তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) ও অস্ত্রোপচারকক্ষসহ বিভিন্ন জরুরি বিভাগ ঘুরে দেখেন। তবে ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার কাঙ্ক্ষিত মান না পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়নের জন্য কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় বেঁধে দেন।
পরবর্তীতে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতের পাশাপাশি মশক নিধনে শিক্ষার্থীদের কার্যকর ভূমিকা রাখার তাগিদ দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘বছরের এ সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। প্রতিবছর ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হন, অনেকের মৃত্যুও হয়। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এ জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াইয়ের সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এ জন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এই কাজে আমি তোমাদের সাহায্য চাই।’ প্রধানমন্ত্রী যোগ করেন, ‘দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যদি নিজেদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেয়, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধসহ পরিবেশ রক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।’
শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্থাপিত ডাস্টবিন এবং সিটি করপোরেশনের রোপণ করা চারাগাছ চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নাগরিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর পারিবারিক উৎসব ও জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমার জন্মদিনে, ভাইবোনের জন্মদিনে কিংবা নানা-নানির জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর চেষ্টা করবে। সেটা তোমার বাসায় হতে পারে, স্কুলে হতে পারে কিংবা গ্রামের বাড়িতে হতে পারে। গাছগুলো যখন বড় হবে, তোমরাও তখন বড় হবে।’ শহরের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও গাছপালা কমে যাওয়ার বিষয়ে শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘একসময় ঢাকায় অনেক বেশি গাছপালা ও খোলা জায়গা ছিল। এখন সেখানে বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। গাছপালা কমে যাওয়ায় শহরে গরমের অনুভূতিও বেড়েছে।’ নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলে তারাও ইতিবাচক সাড়া প্রদান করে।
