দুর্গাপুজোর ঢাকের শব্দ মিলিয়ে গেলেও বাঙালির সাজগোজের পালা শেষ হয় না। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় লক্ষ্মীবেশে সাজেন অনেকেই। আলপনা, পদ্ম, ধানের শীষ আর শঙ্খধ্বনির মাঝে পরিবারের মেয়ে-বউরাই হয়ে ওঠেন ঘরের লক্ষ্মী। আর সেই লক্ষ্মী-রূপকে সম্পূর্ণ করতে লাল-সাদা শাড়ির সঙ্গে চাই সাবেকিয়ানার ছোঁয়া।
ইদানীং ওয়েস্টার্ন বা মিনিমাল লুকের ভিড়ে রোজের সাজগোজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির নিজস্ব গয়না। অথচ গয়নার বাক্সেই হয়তো পড়ে রয়েছে মা-ঠাকুরমার টায়রা, টিকলি, নথ বা কোমরবিছে। বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন করলে সাজগোজের জন্য খুব বেশি সময় পাওয়া যায় না। শাড়ি, হালকা মেকআপ আর সাবেক গয়না পরে নিলেই সাজ হতে পারে একেবারে নজরকাড়া। এ বার কোজাগরীর সন্ধ্যায় ট্রেন্ডি জুয়েলারি নয়, সেই সাবেক গয়নাতেই সেজে উঠুন দেবী লক্ষ্মীর সাজে।
মাথায় টায়রা-টিকলি
পরনে শাড়ি, সঙ্গে মাথায় খোঁপার বাঁধন আর পড়ে ফেলুন বিয়ের টায়রাটি। সোনার টায়রা না থাকলেও আক্ষেপের কিছু নেই, এখন কলকা ও পদ্ম-মোটিফের গোল্ড প্লেটেড টায়রার দারুণ চল। টায়রা না থাকলে পরে ফেলুন ছোট্ট একটা টিকলি, তাতেই মুখের আদল একেবারে বদলে যাবে, চেহারায় আসবে রাজরানির দীপ্তি। আর এই সাজে সিঁথিতে চওড়া করে সিঁদুরের টানটা কিন্তু মাস্ট, তাতেই সম্পূর্ণ হবে আপনার কোজাগরী লক্ষ্মী-লুক।
হাতে হাতপদ্ম
লক্ষ্মীবেশে সাজতে চাইলে হাতে পরে ফেলতে পারেন হাতপদ্ম। একে অনেকে রতনচূড়ও বলেন। হাতের পাতা জুড়ে থাকা পদ্ম বা কলকা নকশার এই গয়নাটি আঙুল থেকে কব্জি পর্যন্ত জড়িয়ে থাকে পাঁচটি চেনে। লাল-সাদা শাড়ির সঙ্গে হাতপদ্ম পরলে হাতের সৌন্দর্য বেড়ে যায় বহু গুণ। এই একটা গয়নাই হাতের সাজকে সম্পূর্ণ করে দেয়। তবে আরও জমকালো করতে চাইলে হাতপদ্মের সঙ্গে পরতে পারেন চওড়া বালা বা লাল-সাদা শাঁখা-পলা। এক হাতে হাতপদ্ম আর অন্য হাতে চূড়-বালা পরলে সাজে আসবে নিখুঁত ভারসাম্য আর স্নিগ্ধতার ছোঁয়া।
পায়ে নুপুর
কোজাগরীর সন্ধ্যায় সারা বাড়ি জুড়ে আলপনা দিয়ে মায়ের পায়ের চিহ্ন আঁকা হয়। আর লক্ষ্মীবেশে সাজলে পায়ের সাজের দিকে নজর না দিলেই নয়। আলতারাঙা পায়ে রুপোর মোটা নূপুর পরলে দেখতে লাগবে বেশ। পারলে সাদা ফেব্রিক রং দিয়ে পায়ের পাতায় আলতার ধার বরাবর ছোট্ট পদ্ম বা কলকার নকশা এঁকে নিন। এই সামান্য ছোঁয়াটাই আপনার গোটা সাজকে সম্পূর্ণতা দেবে। আলতারাঙা পা আর নূপুরের ঝঙ্কারে সাজে আসবে বাঙালি ‘টাচ্’।
কোমরে কোমরবন্ধনী বা বিছে
আটপৌরে করে পরা শাড়ির সঙ্গে একটা কোমরবন্ধনী না পরলেই নয়। এটাই লক্ষ্মী-লুকের সবচেয়ে আন্ডাররেটেড, কিন্তু সবচেয়ে সুন্দর গয়না। শাড়ির আঁচল সামলে কোমরের উপর যখন সোনালি বিছে ঝুলে থাকে, তখন শাড়ির ভাঁজ আরও সুন্দর ভাবে ফুটে ওঠে। ঠাকুরমার আমলের চাবিগুচ্ছ-সহ বিছে বা লক্ষ্মী-মোটিফের কোমরবন্ধনী পরলে দেখতে লাগবে একেবারে প্রতিমার মতো। বিশেষ করে লাল-পাড় গরদ বা লাল সিল্কের সঙ্গে সোনালি বিছের বৈপরীত্য অসাধারণ লাগে।
নাকে নথ
লক্ষ্মীপুজোর সাজে সাবেকিয়ানা আনতে নাকে পরে ফেলুন একটা নথ। ছোট্ট নাকছাবিতে এই লুক জমবে না, চাই বড়, গোল নথ। একটা ভারী নথই আপনার গোটা সাজকে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। মুক্তো বসানো নথে আসবে শান্ত, স্নিগ্ধ লক্ষ্মী-রূপ, আর চুনি বা কুন্দন বসানো নথে ফুটবে রাজকীয় জৌলুস। নথের সঙ্গে যদি টানা চেন থাকে, তা হলে তো কথাই নেই! বিয়ের যে নথটি বাক্সবন্দি হয়ে পরে রয়েছে, তাকে ব্যবহার করেই সেরে ফেলতে পারেন লক্ষ্মীপুজোর সাজ।
সংক্ষেপে
- পুজোর আর মাত্র হাতেগোনা কয়েক দিন বাকি। এই সময়ে সমাজমাধ্যম জুড়ে একের পর এক ‘ক্র্যাশ ডায়েট’, দামি সাপ্লিমেন্ট আর কিটো ডায়েটের বিজ্ঞাপন। তাতে কি সত্যিই ওজন ঝরে?
- পুজো মানেই খুদের বায়না, নতুন জামা পরে ঠাকুর দেখতে যাওয়া। কিন্তু এই সময়ের ভ্যাপসা গরম, হঠাৎ বৃষ্টি আর ভিড়ের ধকল ছোট শরীরে সহজেই অসুখ ডেকে আনতে পারে। তাই আনন্দের মাঝে যেন সে অসুস্থ হয়ে না পড়ে, সে জন্য আগেভাগেই সতর্ক হওয়া জরুরি।
- পুজোর আগে রোগা হবেন, এই ভাবনা যাঁদের মাথায় এসেছে, তাঁদের জন্য সঠিক ফিটনেস রুটিন প্রয়োজন। অল্প সময়ে ক্লান্তি ব্যতিরেকে নিজেকে ফিট ও ছিপছিপে করে তুলতে কিছু সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর রুটিনই হতে পারে আপনার সেরা হাতিয়ার।
আরও পড়ুন
