আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ সালের গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স বা বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ১২২টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ১০০ নম্বরে উঠে এসেছে। তালিকায় প্রতিবেশি দেশ পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও নেপাল, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলির চেয়ে এখনও পিছিয়ে রয়েছে ভারত। সূচক অনুযায়ী, ২৪.১ স্কোর নিয়ে ভারত এখনও 'গুরুতর' ক্ষুধা বিভাগে অবস্থান করছে। যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার গড় স্কোর ২৩.৫ এবং আন্তর্জাতিক গড় স্কোর ১৮.১, সেখানে ভারতের এই পরিসংখ্যান যথেষ্ট উদ্বেগের।
প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভারতের মোট জনসংখ্যার ৯.৮ শতাংশ মানুষ অপুষ্টির শিকার। এছাড়া পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে শারীরিক বৃদ্ধির ঘাটতি বা স্টান্টিংয়ের হার ২৯.৩ শতাংশ এবং ওজনের মারাত্মক ঘাটতি বা চাইল্ড ওয়েস্টিংয়ের হার ১৯ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। এই বয়সি শিশুদের মৃত্যুর হার রেকর্ড করা হয়েছে ২.৭ শতাংশ। পাশের দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা করলে স্পষ্ট ফারাক চোখে পড়ে। বাংলাদেশে যেখানে অপুষ্ট মানুষের হার ৮.২ শতাংশ, ওয়েস্টিং ১২.৯ শতাংশ এবং স্টান্টিং ২৪ শতাংশ, সেখানে ভারতের পরিস্থিতি স্পষ্টতই আরও বেশি প্রতিকূল। অন্যদিকে প্রতিবেশি নেপাল ও শ্রীলঙ্কা যথাক্রমে ১৪.৫ ও ১০.২ স্কোর নিয়ে মাঝারি বা 'মডারেট' শ্রেণিতে জায়গা করে নিয়েছে। তবে ২৫.৫ স্কোর পেয়ে পাকিস্তানের স্থান ভারতের নিচে, ১০৬ নম্বরে।
জার্মানির ‘ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে’ এবং আয়ারল্যান্ডের ‘কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড’-এর যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত এই সূচকটি চারটি মূল মাপকাঠির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়—অপুষ্টি, শিশুদের কম উচ্চতা, উচ্চতা অনুযায়ী কম ওজন এবং পাঁচ বছরের কম বয়সিদের শিশুমৃত্যুর হার। ১৯৮৮ সালের পর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সর্বোচ্চ মাত্রাকে ভিত্তি ধরে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়।
যদিও এই সূচকের গ্রহণযোগ্যতা ও মূল্যায়নের পদ্ধতি নিয়ে কড়া আপত্তি তুলেছে নয়াদিল্লি। কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী সাবিত্রী ঠাকুর রাজ্যসভায় স্পষ্ট জানান, বেসরকারি কয়েকটি সংস্থার তৈরি এই সূচকের পরিমাপ পদ্ধতি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর এবং নির্ভরযোগ্য নয়। তাঁর যুক্তি, ক্ষুধা পরিমাপের যে চারটি মাপকাঠি ব্যবহার করা হয়েছে, তার মধ্যে তিনটিই আসলে শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির সঙ্গে জড়িত, যা গোটা দেশের সামগ্রিক ক্ষুধা পরিস্থিতিকে নির্দেশ করে না। এছাড়া অপর্যাপ্ত ক্যালোরি সংক্রান্ত মাপকাঠিতেও তথ্যের ঘাটতি ও বড়সড় পদ্ধতিগত গলদ রয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার আওতায় প্রায় ৭৯ কোটি ৯ লক্ষ মানুষকে বিনামূল্যে খাদ্যশস্য দেওয়া হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকার প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলের ৫০ শতাংশ মানুষের খাদ্য চাহিদা মেটাচ্ছে এই প্রকল্প। এর পাশাপাশি পিএম-পোষণ প্রকল্পের হাত ধরে দেশের ১০ লক্ষেরও বেশি স্কুলে প্রায় ১১ কোটি ২০ লক্ষ শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং ১৮টিরও বেশি মন্ত্রকের সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে 'মিশন পোষণ ২.০'। জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেও দেশের শিশুদের অপুষ্টির হারে উল্লেখযোগ্য উন্নতির চিত্র ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।
