নীলফামারীর দারোয়ানী রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে স্থানীয়দের রেললাইন অবরোধের কারণে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে চিলাহাটি থেকে রাজশাহী ও খুলনাগামী রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
এর আগে সকাল থেকে সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নে অবস্থিত দারোয়ানী রেলস্টেশনে ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনের একপর্যায়ে তারা রেললাইনে অবস্থান নিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী ‘রকেট মেইল’ ও ‘সীমান্ত এক্সপ্রেস’ ট্রেন আটকে পড়ে। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুরোনো এই দারোয়ানী স্টেশনে অন্তত দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করতে হবে।
আন্দোলনকারী জামিয়ার রহমান বলেন, ‘আমাদের এখানে এখন শুধু একটি লোকাল ট্রেন থামে। ঐতিহ্যবাহী ও পুরোনো এই স্টেশনে আমরা অন্তত দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চাই।’
আরেক আন্দোলনকারী সাফিন আহমেদ বলেন, ‘আগে এই স্টেশনে দুই-তিনটি ট্রেন থামত। বর্তমানে শুধু সকালে একটি ট্রেন থামে। বাধ্য হয়েই আমরা এই আন্দোলন করছি।’
নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার ময়নুল হোসেন জানান, সকাল ৯টা ১৩ মিনিটে সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি নীলফামারী স্টেশনে পৌঁছায়। এর মধ্যেই খবর পাওয়া যায় দারোয়ানী স্টেশনে রকেট মেইল আটকে স্থানীয়রা আন্দোলন করছেন। ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বিঘিœত হয়।
পরবর্তী সময়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন নীলফামারী সদর ইউএনও মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ। তিনি জানান, রেলওয়ের পাকশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, নতুন স্টেশনমাস্টারদের প্রশিক্ষণ চলছে। প্রশিক্ষণ শেষে বন্ধ থাকা স্টেশনগুলোয় দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে। সে সময় দারোয়ানী রেলস্টেশনেও মাস্টার নিয়োগ দিয়ে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর দুপুরে নীলফামারী রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
