যুব উন্নয়ন অধিদফতরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারি বিভিন্ন দফতরের পাঁচ কর্মচারীসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-৩। তদন্তসংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিনিময়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার চুক্তি হয়েছিল।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবেশপত্র, স্ট্যাম্প, ব্যাংক চেক, সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল উৎস এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পাওয়ার দাবি করলেও এর পক্ষে সন্তোষজনক তথ্য দিতে পারেননি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন পরিবেশ অধিদফতরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম (২৩) ও মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম (৩৩), এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ (৩০) এবং এনবিআরে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর (৩৮)।
সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদফতরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের ২৪২টি শূন্যপদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে অংশ নিতে আবেদন করেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, ওই দিন সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ছায়াতদন্ত শুরু করে এসআরবি। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪, ১৫ ও ১৬ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও জানান, গত ১৪ অক্টোবর মতিঝিল এলাকা থেকে রুবেল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম ও হাসিনুর রহমান সুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরখান এলাকা থেকে ইমদাদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে এসআরবি-৪-এর সহায়তায় মিরপুর-১০ এলাকা থেকে আটক করা হয় আসাদুল ইসলামকে।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের কথোপকথন ও চ্যাট পর্যালোচনা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ অক্টোবর সাভার এলাকা থেকে নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করে এসআরবি-৪। পরে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ১৬ অক্টোবর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় গত ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদফতরের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করা এবং এর মূল উৎস খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
