সাইবার আইন নিয়ে সাংবাদিকদের উদ্বেগ যেটা আছে, সেটা বিবেচনায় রাখবেন বলে জানিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এখানে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, সাইবার আইন নিয়ে পাবলিক কনসাল্টেশন চলছে।
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্য থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আসছে। তিনি গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট অডিটরিয়ামে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, সেখানে একটা জায়গায় সবাই একমত হয়েছে, সেটা হলো—সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষকে যেভাবে অ্যাবিউজ করা হচ্ছে এবং এআই ব্যবহার করে যেভাবে করা হচ্ছে, সেটার ক্ষতির হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য একটা আইন হওয়া প্রয়োজন।
এটা মোটামুটি সবাই এক জায়গায় একমত হয়েছে। ল্যাঙ্গুয়েজটা কী হবে, সেটা বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্নভাবে আসছে। আমরা পর্যালোচনা করে ফাইনালি যেটা আসবে, সেটা নিয়ে পার্লামেন্টে এগিয়ে যাব। সুতরাং এখনো এটা একটা ‘র’ স্টেজে আছে, প্রাইমারি স্টেজে আছে। আমরা এখনো এটা ফাইনাল ড্রাফটিংয়ের স্টেজে যাইনি। সাংবাদিকদের উদ্বেগ নিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের কনসার্নের জায়গা ছিল।
আমরা সাংবাদিকদের কনসার্ন যেটা আছে, সেটাও বিবেচনায় রাখব এবং সেখানে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নাই। সাংবাদিকরা, আপনারা যারা পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন, আমার তো মনে হয় না যে আপনাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত কোনো আইনেও, ইভেন এর আগে যে ড্রাকোনিয়ান ল’ ছিল সেখানেও খুব বেশি মামলা হয়েছে বলে মনে হয় না। সেটাকে আমরা প্রায়োরিটি দিয়ে সামনের দিকে এগোবো। ৫৭ ধারার অপব্যবহার কিংবা ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের অপব্যবহার যে হয়েছে, সেটা আমাদের মাথায় আছে, সেটা বিবেচনায় রেখে আমরা এগোব।
২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩ রহিত করে সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছিল। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশটি সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ নামে পাস হলেও তখনই সরকারের দিক থেকে পরবর্তীতে আইনে আরো সংশোধনী আনার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী সরকারের দিক থেকে একটি খসড়া প্রস্তুত করে তার ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে সরকার। খসড়াটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর বিল আকারে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হবে।
বিআলো/অর্নব