দেশের বাজারে সারা বছরই পাওয়া যায় পেয়ারা। সুস্বাদু এই ফল ভিটামিন সি, খাদ্যআঁশ, পটাশিয়াম ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস। তবে লাল শাঁসের পেয়ারা ও সাদা শাঁসের পেয়ারার মধ্যে পুষ্টিগুণের কিছু পার্থক্য রয়েছে। প্রশ্ন হলো, শরীরের জন্য কোনটি বেশি উপকারী?
লাল পেয়ারায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের বৈচিত্র্য:
লাল শাঁসের পেয়ারায় লাইকোপিনসহ বিভিন্ন ক্যারোটিনয়েড থাকতে পারে। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। কিছু জাতের লাল পেয়ারায় বিটা-ক্যারোটিনও থাকে, যা শরীরে ভিটামিন এ তৈরিতে সাহায্য করে। ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি ও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সাদা পেয়ারাও পুষ্টিতে কম নয়:
সাদা শাঁসের পেয়ারা ভিটামিন সি-এর উল্লেখযোগ্য উৎস। এই ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা, কোলাজেন তৈরি এবং খাবার থেকে আয়রন শোষণে সহায়তা করে। তবে পেয়ারার জাত ও পরিপক্বতা অনুযায়ী ভিটামিন সি-এর পরিমাণ বদলে যায়। তাই সব সাদা পেয়ারা লাল পেয়ারার চেয়ে বেশি বা কম পুষ্টিকর—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়।
ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে কোনটি ভালো?
লাল ও সাদা; দুই ধরনের পেয়ারাতেই খাদ্যআঁশ রয়েছে। এই আঁশ হজমে সহায়তা করে, পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পেয়ারা খেলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এমন নয়। পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
কোন পেয়ারা বেছে নেবেন?
পুষ্টিবিদদের সাধারণ পরামর্শ হলো, ফলের রং নয়, বরং পুষ্টির বৈচিত্র্য ও পরিমাণকে গুরুত্ব দেওয়া। লাল পেয়ারা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কিছু বিশেষ উপাদানের উৎস হতে পারে, আর সাদা পেয়ারা ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ হতে পারে। দুই ধরনের পেয়ারা পালাক্রমে খেলে খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনা যায়।
সব মিলিয়ে, টাটকা পেয়ারা বেছে নিন এবং নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খান। সুস্থ থাকতে কোনো একটি ফলের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি ও নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
