মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ বাড়াতে এজেন্ট নিয়োগের উদ্যোগ বিএসইসির
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের পরিসর বাড়ানো এবং এ খাতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করতে লাইসেন্সধারী এজেন্ট চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে সনদপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা লাইসেন্স নিয়ে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে কাজ করার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
আজ সোমবার বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০২৬-এর সমাপনী উপলক্ষে ‘ডিজিটাল প্রতারণা ও জালিয়াতি সম্পর্কে সতর্কতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে। রাজধানীর ডিএসই টাওয়ারে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
তিনি জানান, নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ও সনদ গ্রহণের পর লাইসেন্সধারী এজেন্টরা মিউচুয়াল ফান্ড খাতে কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন। পুঁজিবাজারের বিকাশ ত্বরান্বিত করতে এ খাতের পরিধি সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন।
মিউচুয়াল ফান্ডের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরে মাসুদ খান বলেন, আগামী দিনে উন্মুক্ত বা ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের বিকাশ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এ প্রসঙ্গে ভারতের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, দেশটিতে লাইসেন্সধারী মিউচুয়াল ফান্ড এজেন্টরা বিমা ব্রোকারদের মতো কাজ করেন। এ ধরনের ব্যবস্থা চালু থাকায় ভারতে মিউচুয়াল ফান্ড শিল্প ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএসইসি চেয়ারম্যানের মতে, মিউচুয়াল ফান্ড খাতের বিস্তারের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে শেয়ার বিশ্লেষণ ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব। এ কারণে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু সরাসরি শেয়ার কেনার ওপর নির্ভরশীল না থেকে মিউচুয়াল ফান্ডের মতো বিকল্প বিনিয়োগ মাধ্যমগুলোর বিকাশেও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।মার্কেট দেখুন
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য বাজারের গভীরতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাজার মূলধন বৃদ্ধিও জরুরি। এ লক্ষ্য পূরণে মিউচুয়াল ফান্ডসহ বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ পণ্যের সম্প্রসারণ দরকার। এ বিষয়ে বাজারসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে কমিশন, যাতে সেগুলো পুঁজিবাজারের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
মাসুদ খান বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন কেবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার একক প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যম ও বিনিয়োগকারীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মৌলভিত্তি ভালো এমন শেয়ার নির্বাচন এবং যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
মিউচুয়াল ফান্ড খাতে লাইসেন্সধারী এজেন্ট চালুর পরিকল্পনাকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ ও ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি জানান, প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ এজেন্ট তৈরি করে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের বিকাশে কাজ করতে চায় কমিশন।


