সমাজমাধ্যমে ‘হিন্দুত্ববাদী গুণ্ডা’ মন্তব্যের জের! বর্ষীয়ান বামনেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে একাধিক অভিযোগ। সেই মামলায় আগামী ১৩ এবং ১৪ অক্টোবর গরফা এবং কসবা থানায় তলব করা হয়েছে বিকাশ রঞ্জনকে। তিনি কি হাজিরা দেবেন? তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তবে এদিন বামনেতার স্পষ্ট বক্তব্য, আগে ১০০টা থানায় অভিযোগ দায়ের হোক, তারপর তিনি যাবেন। অন্যদিকে এদিন ফের ডায়মন্ড হারবার থানায় সিপিএম নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিকাশের পোস্টে ‘হিন্দুত্ববাদী গুণ্ডা’ মন্তব্যের জেরেই একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের তরফে এহেন অভিযোগ দায়ের করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। ওইদিন ভোরের দিকে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের যাদবপুরের বাড়িতে হামলা চালায় জনা কয়েক দুষ্কৃতী। মুখে কাপড় বাঁধা অবস্থায় কাচের বোতল, পাথর ছুড়ে বাড়ির জানলা ভাঙা হয় বলে অভিযোগ। এই কাজ হিন্দুত্ববাদী গুন্ডাদের বলে অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন বিকাশরঞ্জনবাবু।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মদ্যপ অবস্থায় এক ব্যক্তির আক্রমণকে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য তাঁর হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণ বলে বিরূপ মন্তব্য করেছেন, যা কখনওই মেনে নেওয়া যায় না। সিপিএম নেতার এমন মন্তব্য সনাতনী ভাবাবেগকেই আঘাত করেছে বলে মনে করেন হিন্দুত্ববাদী ওই সংগঠনের নেতারা। অভিযোগের ভিত্তিতে সিপিএম নেতাকে অবিলম্বে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে যাতে গ্রেপ্তারও করা হয় সেই দাবিও জানিয়েছেন তিনি। যদিও এই বিষয়ে এখনও ডায়মন্ড হারবার থানার তরফে কোনও বক্তব্য জানা যায়নি।
তবে একের পর এক থানায় অভিযোগ এবং তলব প্রসঙ্গে এদিন মুখ খোলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ”আগে একশোটা থানায় অভিযোগ হোক। তারপর যাব। তার আগে যাবই না।” শুধু তাই নয়, শাসক দল এবং মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বামনেতার মন্তব্য, ”ওরা সেঞ্চুরি করুক তারপর আমি বাউন্সার দেব। সাংবিধানিক পদে থেকে উনি (পড়ুন-শুভেন্দু অধিকারী) ধর্মীয় উন্মাদের মতো কথা বলছেন।”
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। ওইদিন ভোরের দিকে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের যাদবপুরের বাড়িতে হামলা চালায় জনা কয়েক দুষ্কৃতী। মুখে কাপড় বাঁধা অবস্থায় কাচের বোতল, পাথর ছুড়ে বাড়ির জানলা ভাঙা হয় বলে অভিযোগ। এই কাজ হিন্দুত্ববাদী গুন্ডাদের বলে অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন বিকাশরঞ্জনবাবু। ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহে ইতিমধ্যে ২ জন গ্রেপ্তার হয়। পুলিশের দাবি, ধৃত দুজনই তৃণমূলের দুষ্কৃতী। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিকাশবাবুর ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দ নিয়ে আপত্তি তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একটি জনসভা থেকে তিনি কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে জানান যে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই শব্দটি ফেসবুক পোস্ট থেকে প্রত্যাহার করতে হবে বিকাশরঞ্জনবাবুকে। কিন্তু রবিবার দুপুরে সেই সময়সীমা পার হয়ে গেলেও নিজের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।
