আজকাল ওয়েবডেস্ক: সশরীরে পরীক্ষা না করেই এক ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করলেন চিকিৎসক। এমনকী ভিডিও কলে তাঁকে দেখেই ডেথ সার্টিফিকেটও লিখে দিলেন। অবশেষে চিকিৎসকের কীর্তি ফাঁস হতেই প্রকাশ্যে এল ভয়াবহ খুনের ঘটনাটি। যা ঘিরে তোলপাড় গোটা শহর।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ে। পুলিশ জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলে মৃতদেহ দেখেই ডেথ সার্টিফিকেট লিখে দেওয়ার অভিযোগে উঠেছে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। অথচ, ওই ব্যক্তিকে আদতে খুন করা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসক ডেথ সার্টিফিকেটে লিখেছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, খুনের ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের সঞ্জয় গান্ধী জাতীয় উদ্যানে। এক ব্যক্তিকে পরপর গুলি করে খুনের অভিযোগ উঠেছে চারজনের বিরুদ্ধে। পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ৫৬ বছর বয়সি ধৃত চিকিৎসকের নাম, ড. রাজেশ পান্ডুরাং পালান্দে। তিনি কাশীগাঁওয়ের আশিস হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।
মীরা রোডের ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ রাহুল চৌহান জানিয়েছেন, ভুয়ো ডেথ সার্টিফিকেট লিখে দেওয়ার অভিযোগে চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি মৃতদেহ পরীক্ষাই করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে মৃতদেহ দেখে ডেথ সার্টিফিকেটে লিখে দেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। অথচ ওই ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছিল। খুনের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ভুয়ো ডেথ সার্টিফিকেট লিখে দেন ওই চিকিৎসক।
এক পুলিশ আধিকারিকের ওই খুনের ঘটনাটি ঘিরে সন্দেহ বাড়ে। বিজয় সাপ্তে নামের ওই ব্যক্তিকে খুন করা হয় জাতীয় উদ্যানে। কিন্তু সেটি ধামাচাপা দেওয়া হয় রাতারাতি। বিজয়ের ছেলে জানিয়েছেন, গত সোমবার সন্ধ্যায় ডাবুচা ঘাট পাহাড়ি এলাকায় বুনো শুয়োর শিকার করতে গিয়েছিলেন তাঁর বাবা ও আরও কয়েকজন। বিজয়, মহেশ অনন্ত গাইকার, কল্পেশ বান্দু ডাগলা, কুনাল প্রভাকর শেলার এবং কাঠোদ বিস্তুর লাবাদ। রোহিতও দলটির অংশ ছিল। গাইকারের কাছে একটি শটগান ছিল, আর বিজয় ও লাবাদের কাছে ছিল মাযল-লোডিং বন্দুক।
রোহিত পুলিশকে জানান, "আমরা যখন জঙ্গলের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিলাম, রাত প্রায় সাড়ে ৯টার দিকে একটি মোবাইল ফোনের টর্চ জ্বালানো হয়। সেই আলোয় কোনও বন্য পশুর আওয়াজ পেয়ে গাইকার তাঁর ডাবল-ব্যারেল শটগান দিয়ে গুলি চালান। গুলি লাগে আমার বাবার বুকের বাম পাশে ও পায়ে। দলের আরও দুজন আহত হন।"
এরপর বিজয়ের মৃতদেহের ছবি ওই চিকিৎসককে ভিডিও কলে দেখানো হয়। তিনিই বিজয়কে সশরীরে পরীক্ষা না করেই মৃত ঘোষণা করেন। আধার কার্ড, অন্যান্য নথিপত্র নিয়ে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর পরিবারের উপস্থিতিতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
