ফিফার গভর্নিং কাউন্সিলের বহুল আলোচিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তুমুল তোপের মুখে পড়ে অবশেষে নিজের ঘোড় সমালোচকদের কাছে বিনয়ের সঙ্গে ক্ষমা চেয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে ক্ষমা চাইলেও যে বিষয়গুলো নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল, সেগুলোর কোনো সদুত্তর বা দাপ্তরিক নথি পেশ করতে পারেননি তিনি। ফলে ক্ষোভ কমেনি ইউরোপীয় ফুটবল কর্তাদের। উল্টো তার ওপর ক্ষোভ আরও দ্বিগুণ বেড়েছে।
গত জুলাইয়ে ৪২০ কোটি ডলারের বিনিময়ে বিশ্বকাপের গোপন শেয়ার বা প্রাইভেট মালিকানা বিক্রির যে বিতর্কিত পরিকল্পনা শুরু করেছিলেন ইনফান্তিনো, সেই বিষয়ে বৈঠকে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য দেখাতে পারেননি তিনি।
এমনকি বিশ্বকাপে মার্কিন তারকা ফোলারিন বালোগানের বিতর্কিত লাল কার্ডকাণ্ড এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে সেই শাস্তি মওকুফের বিষয়েও স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি। তবে আগামী ডিসেম্বরে ট্রাম্পকে দেওয়া ‘বিশেষ শান্তি পুরস্কার’ ধারাটি টিকিয়ে রাখা হবে কি না, তা পুনঃমূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
বিশ্বকাপের স্বত্ব বিক্রির পেছনে যে গোপন চুক্তি হয়েছিল, তা নিয়ে দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকে ইনফান্তিনোকে একের পর এক কঠিন প্রশ্নে বিদ্ধ করেন ইউরোপীয় ফুটবলের কর্তারা। ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) প্রধান ও ফিফার সহ-সভাপতি ডেবি হিউইট জানান, তথ্যের বদলে তাদের লিখিত প্রশ্ন জমা দেওয়ার কথা বলেছেন ফিফা প্রধান।
বৈঠক শেষে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ডেবি হিউইট বলেন, ‘ওই লোকটিকে (ইনফান্তিনো) অবশ্যই প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হবে। যদি তিনি এসব প্রশ্নের সৎ জবাব না দিতে পারেন, তবে ফিফার প্রেসিডেন্ট পদে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই তার।’
ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা (উয়েফা) ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী মার্চে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই কিংবা ভোটের লড়াইয়ে ইনফান্তিনোকে চেয়ার থেকে হঠাতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। বৃহস্পতিবারের রুদ্ধশ্বাস বৈঠকের পরও ইউরোপের প্রতিনিধিরা তাদের সেই শক্ত অবস্থান থেকে সরে আসেননি।
ঘটনার পর ৩৭ সদস্যের ফিফা কাউন্সিল প্রথমবার বৈঠকে বসেছিল। কাউন্সিলে উয়েফার অন্যতম প্রতিনিধি এবং জার্মান ফুটবল প্রধান বের্নড নয়েনডর্ফ বলেন, ‘আমাদের কোনো প্রশ্নেরই সন্তোষজনক জবাব দেওয়া হয়নি। আমাদের এখন এমন একজন সৎ মানুষ প্রয়োজন, যিনি ফুটবলের এই কলঙ্কিত ও বিনষ্ট হওয়া ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে পারবেন।’
এর আগে গত জুলাইয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র ৯ দিন পর ধনকুবের জোশুয়া কুশনারের সঙ্গে ইনফান্তিনোর গোপন যৌথ বিনিয়োগ চুক্তির খবর গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে পড়ে। এই বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে কাউন্সিল সহকর্মীদের পুরোপুরি অন্ধকারে রাখার অপরাধে অবশ্য বৈঠকের শুরুতেই অনুশোচনা প্রকাশ করে ক্ষমা চান ইনফান্তিনো।
এদিকে পরিস্থিতি এতটাই গড়ায় যে, সুইজারল্যান্ডের আদালতে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে উয়েফা। সে লক্ষ্যে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের অনুমতি চেয়ে ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তারা।
তাদের অভিযোগ, নতুন প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জোশুয়া কুশনারের নেতৃত্বাধীন বিনিয়োগকারীদের হাতে অন্তত ২০ শতাংশ মালিকানা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ফিফার বিপুল তহবিলের মারাত্মক অর্থনৈতিক নয়ছয় ও অনিয়ম করা হয়েছে।
