ঢাকা,২০ অক্টোবর-মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগকে ঐতিহাসিক ও সাহসী সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তাঁর মতে, এই পদত্যাগ কোনো অধ্যায়ের শেষ নয়; বরং ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের নতুন পথ খুলে দিতে পারে।
সোমবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন মাহদী আমিন। বর্তমানে পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন জানিয়ে তিনি লেখেন, এক সপ্তাহের জন্য ওমরাহ পালন করতে সেখানে গেছেন। সেখান থেকেই তিনি জানতে পেরেছেন, তাঁর প্রিয় ভাই এবং রাজপথের আপসহীন লড়াইয়ের অন্যতম মুখ ইশরাক হোসেন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন।
ইশরাক হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, একসঙ্গে কাটানো স্মৃতি এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তাঁর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি ইশরাককে ওই আন্দোলনের একজন নির্ভীক যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন।
বিএনপির ইয়ুথ এনগেজমেন্ট, কূটনৈতিক যোগাযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে একসঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও দেশপ্রেম ইশরাক হোসেন যেভাবে নিজের বিশ্বাসে ধারণ করেন, তা সত্যিই অনন্য।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও বলেন, ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কাজের পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন বা মতভিন্নতা থাকতে পারে। তবে যে উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এত আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার লক্ষ্য, নৈতিকতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে সামান্যতম দ্বিধারও কোনো সুযোগ নেই।
মাহদী আমিনের ভাষ্য, প্রতিমন্ত্রীর পদ কিংবা পদত্যাগপত্র দিয়ে ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয় ও আত্মত্যাগের মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। সাময়িক কোনো সিদ্ধান্তের চেয়ে দল, দেশ ও মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদান এবং আন্তরিক অবস্থান অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জনগণের সরকারের বার্তা এ ক্ষেত্রে অনেকটাই স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থাভাজন, ত্যাগী ও জনপ্রিয় এই তরুণ নেতার সাহসী ও জনবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও যদি কোনো বিতর্কের অবকাশ থাকে, সেখানেও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে। রাষ্ট্র গঠনের যাত্রায় আগামী দিনগুলোতেও সরকারের প্রতিটি পর্যায়ে দায়বদ্ধতার এই ধারা বজায় থাকবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
পোস্টের শেষাংশে মাহদী আমিন বলেন, ইশরাক হোসেনের এই ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব পদত্যাগ কোনোভাবেই একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়। আত্মোপলব্ধি, সংশোধন এবং গণমানুষের ভালোবাসার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে তাঁর আরও বড় ও জনমুখী রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পথ খুলে যেতে পারে।
এস এম/ ২০ অক্টোবর ২০২৬
