Published on
:
3 min read
কেউ থালা-বাটি বাজাচ্ছেন। কেউ বাজাচ্ছেন কাঁসর, আবার কেউ ঘণ্টা। বিদ্রোহের এক অভিনব প্রদর্শন হলো মণিপুরে। শব্দের ঝঙ্কার উঠল রাস্তা জুড়ে। প্রায় তিন বছর ধরে চলা অশান্ত মণিপুর সাক্ষী থাকল শব্দদ্রোহের। ভারতের এই রাজ্যে শান্তি ফেরানোর দাবিতে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ‘Federation of Haomee’। সংগঠনটির আহ্বানে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে এই কর্মসূচি।
এক নজরে
কোথায়: মণিপুরের পাঁচটি উপত্যকা জেলা, বিশেষ করে রাজধানী ইম্ফল।
কবে: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬।
কীভাবে প্রতিবাদ: থালা-বাসন পেটানো, ঢাক বাজানো, গাড়ির হর্ন ও সাইরেন বাজানো।
কেন বিক্ষোভ: লাগাতার হিংসা, জাতিগত সংঘাত এবং রাজ্যে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরাতে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ।
প্রতিবাদের আয়োজক: Federation of Haomee নামের একটি নাগরিক সংগঠন।
কেন এই শব্দের প্রতিবাদ?
কিন্তু কেন এই অভিনব প্রতিবাদ? কেন এই শব্দের ঝনঝনানি? একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘আমরা এই আওয়াজ তুলছি যাতে আমাদের কষ্টটুকু নেতাদের কানে পৌঁছয়। দীর্ঘ সময় ধরে আমরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে তাঁদের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছি। কিন্তু তাঁরা তা পুরোপুরি উপেক্ষা করেছেন। আর সে কারণেই আজকের এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে আমরা সাড়া দিয়েছি।’
ছবি:এক্সEisamay.com
কী এর মর্মার্থ?
স্থানীয় ভাষায় এই ধরনের প্রতিবাদকে বলে ‘Lanpung Yeiba’। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, এই শব্দটি ‘লান’ (যুদ্ধ), ‘পাং’ (ঢোল) এবং ‘ইবা’ (আঘাত করা বা পেটানো)—এই তিনটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত। অর্থাৎ যুদ্ধ বা কোনও প্রতিবাদের বিষয়ে মানুষকে সতর্ক করতে অথবা সংঘাতের জন্য তাদের একত্রিত করতে ঢোল বাজানো রীতি থেকে এর উৎপত্তি।
কী ভাবে প্রতিবাদ হয়?
বিক্ষোভের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে ইম্ফলের ঐতিহাসিক কাংলা দুর্গ। প্রাক্তন মণিপুর রাজ্যের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত এই স্থানে বহু মানুষ জড়ো হন। সেখান থেকে মিছিল করে এগোনোর চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। রাজ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে জড়ো হন। কেউ থালা-বাসন বাজাতে থাকেন। কেউ ঢাক-ঢোল বাজান, কেউ গাড়ির হর্ন ও সাইরেন বাজিয়ে প্রতিবাদ জানান। কোথাও আবার হাতুড়ি দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে আঘাত করে আওয়াজ তোলা হয়। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে মণিপুরের উপত্যকা অঞ্চল জুড়ে শোনা যায় এই প্রতিবাদের আওয়াজ।
কী দাবি ছিল প্রতিবাদীদের?
দীর্ঘদিন ধরে চলা হিংসার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনাই হলো বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি। এর পাশাপাশি মণিপুরে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস (NRC) কার্যকর করা, রাজ্যে অবৈধ অভিবাসনের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে সরকারের ‘Suspension of Operations’ (SoO) চুক্তি বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভকারীদের মিছিল আটকাতে বিভিন্ন জায়গা ছিল পুলিশ ব্যারিকেড। প্যালেস কম্পাউন্ড, ময়রাংখোম এবং কেইসামপাট জংশনের মতো একাধিক জায়গায় আন্দোলনকারীদের আটকে দেওয়া হয়। কিছু মানুষ কাংলা দুর্গের প্রবেশদ্বারের কাছে পৌঁছে যান। কাংলা দুর্গের পশ্চিম দিকের প্রবেশদ্বার থেকে রাজভবনের দূরত্ব প্রায় ৩০০ মিটার। নিরাপত্তার কারণে ওই এলাকায় ব্যারিকেড তৈরি করা হয়।
FAQ
১. মণিপুরে কেন থালা-বাসন পিটিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন হাজার হাজার মানুষ?
রাজ্যে দীর্ঘদিনের জাতিগত সংঘাত, লাগাতার হিংসা এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরাতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতেই এই অভিনব প্রতিবাদ।
২. মণিপুরে কবে এই বিক্ষোভ হয়?
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলে।
৩. মণিপুরের কোথায় কোথায় বিক্ষোভ হয়েছে?
রাজ্যের পাঁচটি উপত্যকা জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ হয়। ইম্ফলের ঐতিহাসিক কাংলা দুর্গের কাছে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
৪. বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলি কী?
জাতিগত সংঘাতের অবসান, NRC কার্যকর করা, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে SoO চুক্তি বাতিল করার মতো দাবি উঠেছে।
