ক্রীড়া প্রতিবেদক অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
শেষ ওভারে প্রয়োজন ১৫ রান। প্রথম দুই বলে স্ট্রাইকই পাননি রুবাই ইসলাম রিজন। ৪ বলে দরকার ১৪ রান, সেখান থেকে বাউন্ডারি মেরে আশা জাগালেন। পরের বলে ২ রান, পঞ্চম বলে ছক্কা! শেষ বলে সমীকরণ দাঁড়াল ২ রানের। ব্যাটে-বলে সংযোগ হলো না, তবু দৌড়ে দুই প্রান্ত বদল করলেন রিজন ও শেখ আতিকুর রহমান। তাতেই টাই হয়ে গেল ম্যাচ।
ওমান ক্রিকেট একাডেমি মাঠে সোমবার (১৯ অক্টোবর) আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় যুব ওয়ানডেতে ৩০৪ রান করে বাংলাদেশও। শেষ ওভারের নাটকীয়তায় হার এড়িয়ে চার ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে বল হাতে আলো ছড়ানো রিজন এবার ব্যাট হাতে দলকে বাঁচালেন। বোলিংয়েও নিয়েছেন ৪ উইকেট।
ম্যাচটি জিতলে যুব ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড হতো। ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০৪ রান তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা দারুণ ছিল বাংলাদেশের। প্রথম পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৭০ রান তোলে তারা। আবদুল্লাহ আল মুহি ৯ চারে ৪৫ বলে করেন ৫০ রান। আল আমিন হোসেন রনি ও আহসান আল মুমিন তৃতীয় উইকেটে ৭৪ বলে যোগ করেন ৮০ রান। ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৫৬ বলে ৭১ রান করেন আল আমিন। আহসানের ব্যাট থেকে আসে ৬৬ বলে ৫৬ রান।
এরপর দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ২৮ বলে প্রয়োজন ৪০ রান, হাতে মাত্র তিন উইকেট- এমন পরিস্থিতিতে ক্রিজে যান রিজন। দ্রুতই শাকিল খান ফিরে গেলে দায়িত্বটা আরও বেড়ে যায় তার।
৪৮তম ওভারে ছক্কা মেরে লড়াইয়ে রাখেন দলকে। পরের ওভারে ইমরান মোহাম্মাদি মাত্র ১ রান দিলে ম্যাচ আফগানিস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়ে। কিন্তু শেষ ওভারে রিজনের বীরত্বে হার এড়ায় বাংলাদেশ। ৩ চার ও ২ ছক্কায় ১৯ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
এর আগে আফগানিস্তানের শুরুটাও ছিল ঝোড়ো। প্রথম ১০ ওভারে ৭৪ রান তোলে তারা। মাঝের অংশে বাংলাদেশের বোলাররা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলেও শেষ দিকে ঝড় তোলেন আফগান ব্যাটসম্যানরা।
ফারিদউল্লাহ ইহসাস ৫১ ও নোমান সালারজাই ৭৬ রান করেন। শেষ দিকে তাহির সারওয়ারির ৩১ বলে ৪৩ এবং আমির হামজার ১১ বলে ২১ রানে ৩০৪ রানে পৌঁছায় আফগানিস্তান। যুব ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের সর্বোচ্চ স্কোর। বাংলাদেশের হয়ে ৯ ওভারে ৭২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন রিজন।
একই মাঠে বুধবার (২১ অক্টোবর) সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল।
খুলনা গেজেট/উউরা
