Published on
:
2 min read
বাঙালির হেঁশেলে নারকেলের উপস্থিতি বহুদিনের। কখনও চিংড়ির মালাইকারিতে, কখনও উৎসবের নাড়ুতে। তবে নারকেলের পরিচয় কি শুধুই এই দুই পদে সীমাবদ্ধ? একেবারেই নয়। বাঙালির রান্নায় নারকেলের ব্যবহার যে কতটা বৈচিত্রময়, তারই সন্ধান দিতে ‘সিক্স বালিগঞ্জ প্লেস’–এ আয়োজিত হয়েছিল ‘কোকোনাট ফেস্টিভ্যাল’। যা শেষ হয়েছে সদ্য। এই উৎসবের মূল ভাবনা, বাংলার চেনা উপাদানটির অচেনা স্বাদ ও হারিয়ে যেতে বসা পদগুলিকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসা।
নারকেল, বাঙালির রান্নায় কখনও স্বাদের গভীরতা বাড়ায়, কখনও এনে দেয় বিশেষ গন্ধ ও টেক্সচার। সর্ষেবাটা দিয়ে তৈরি পদে নারকেলের সংযোজন, ডাল ও বিভিন্ন সব্জির সঙ্গে তার মেলবন্ধন কিংবা মুচমুচে ভাজায় নারকেলের ব্যবহার— সব মিলিয়ে এই উপাদানের নানা রকম উপস্থিতি রীতিমতো বিস্ময় জাগায়। মিষ্টির ক্ষেত্রেও নারকেলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অথচ দৈনন্দিন রান্নায় তা অনেক সময়েই থেকে যায় আড়ালে।
Ei Samay
এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ বাংলার আঞ্চলিক খাদ্যসংস্কৃতির পরিচিতি। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের এমন কিছু নারকেল-নির্ভর পদকে সামনে আনার উদ্যোগ রয়েছে, যেগুলি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পারিবারিক রান্নায় জায়গা করে নিলেও বৃহত্তর পরিসরে তেমন পরিচিতি পায়নি।
কোনও পদ হয়তো বাড়ির রান্নাঘরে বেঁচে রয়েছে, কোনও রেসিপি আবার হারিয়ে যাওয়ার পথে। সেই সব পদকে নতুন করে চেনানোই নারকেল উৎসবের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী উপকরণ ও রান্নার কৌশলকে আধুনিক খাদ্যরুচির সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টাও রয়েছে। কী ভাবে একটি পরিচিত উপাদান দিয়ে তৈরি হতে পারে নতুন স্বাদের পদ, অথচ অটুট থাকতে পারে তার সাংস্কৃতিক পরিচয়— সেই ভাবনাও উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মাছ, ডাল, সব্জি, মুখরোচক নোনতা পদ থেকে শুরু করে নানা মিষ্টি— পুরো বাঙালি খাবারের পরিসরেই নারকেলের উপস্থিতি তুলে ধরবে এই উৎসব। আসলে নারকেল উৎসব শুধু খাবারের আয়োজন নয়, বাঙালির রন্ধনের ঐতিহ্য, পারিবারিক স্মৃতি ও আঞ্চলিক পরিচয়কে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ। এতদিন যে নারকেল রান্নার আড়ালে থেকে স্বাদ বাড়িয়েছে, এবার সেই নারকেলই হয়ে উঠুক বাঙালির হেঁশেলের আসল নায়ক।