Published on
:
2 min read
এই সময়, আরামবাগ: গোঘাটে গোটা অক্টোবর, পুজোর মাসজুড়ে ধারাবাহিক ভাবে মন্দিরে মন্দিরে চুরি। এই চুরির ঘটনায় হুগলি জেলাজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। পুলিশ কেন মন্দিরে চুরি রোধ করতে ব্যর্থ হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ ও প্রশাসনের ব্যর্থতা সামনে আসায়, চাঞ্চল্য ছড়ায় জেলাজুড়ে। শুক্রবার রাতে গোঘাটের গোলপুরে দু’টি মন্দিরে চুরি হয়। একটি মন্দিরে তালা ভাঙার চেষ্টা, অন্য মন্দির থেকে সোনার গয়না ও বিগ্রহ চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরপর এমন ঘটনায় এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোলপুর গ্রামের একটি নারায়ণ মন্দির এবং একটি শীতলা মায়ের মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, প্রথমে নারায়ণ মন্দিরের তালা ভাঙার চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। তালা ভাঙতে সক্ষম হলেও, মূল মন্দিরের ভিতরে ঢুকতে পারেনি তারা।
অন্য দিকে, শীতলা মায়ের মন্দিরের তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে ঠাকুরের সোনার গয়না এবং মন্দিরে থাকা লক্ষ্মীনারায়ণের বিগ্রহ চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। প্রসঙ্গত, গোঘাটের কাঁটাপুরে দু’টি মন্দিরে চুরি হয় গত ১৩ অক্টোবর, ২০ অক্টোবর গোঘাটের আনুর গ্রামের হারাধন মল্লিকের বাড়িতে, ১১ অক্টোবর গোঘাটের চাঁদপুর ও কামালচক গ্রামে দুই থেকে তিনটি মন্দিরে চুরি হয়।এই বিষয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ মধ্যবঙ্গ প্রান্তীয় কার্যকর্তা সুভাশিস মল্লিক বলেন, ‘এটা পুলিশ ও প্রশাসনের ব্যর্থতা। মন্দিরে চুরি ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানছে। পুলিশের উচিত, দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া।’
আরামবাগের কালীপুর গদাই ঠাকুর আশ্রমের মহারাজ স্বামী সত্যানন্দ জানান, গোঘাটের আশ্রমে বিগ্রহ চুরি গিয়েছে এবং এক লক্ষ টাকার গয়না চুরি হয়েছে। এর বিরুদ্ধে পুলিশের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্য দিকে, পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, ‘মন্দিরে চুরি বন্ধ করার জন্য পুলিশের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অন্য দিকে, প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্দিরে চুরি বন্ধ করার জন্য পুলিশ প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে।
