ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণের কাছে পাঁচ করবর্ষের বকেয়া কর বাবদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি আদায়ের বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। ফলে আপাতত ওই অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটিকে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) গ্রামীণ কল্যাণের আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন।
গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের করা দুটি রিট আবেদন খারিজ করে রায় দেন। ওই রায়ে পাঁচ করবর্ষের আয়কর পুনর্নির্ধারণ করে এনবিআরের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির করা রিট দুটি খারিজ করা হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ এ-সংক্রান্ত রিট আবেদন খারিজ করেছিলেন। পরে ওই রায় প্রত্যাহার করে নেন একই বেঞ্চ। কারণ হিসেবে জানানো হয়, বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক একসময় এসব মামলায় সরকারের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ কারণে রায় প্রত্যাহার করে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। পরে মামলাগুলো শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়।
পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে কর বাবদ অর্থ দাবি করে এনবিআর। ওই দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২৪ সালে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানিয়েছিল, পাঁচ করবর্ষে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর দাবি করেছে এনবিআর। প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরে শুনানি শেষে সেই রুল খারিজ করে দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক আবেদন গত ১৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন। তবে ২০২৪ সাল থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত নন বলে জানা গেছে।
