Published on
:
2 min read
স্নেহাশিস নিয়োগী
স্নাতকে পাশের হার ও পড়ুয়াদের ক্লাসে উপস্থিতি বাড়াতে কোর্সের মাঝপথেই বদলে যাচ্ছে মূল্যায়ন পদ্ধতি। প্রশ্নের ধাঁচ, কাঠামো, মার্কস বিভাজন এবং গ্রেড পয়েন্ট ক্যালকুলেশনে আমূল পরিবর্তন আসছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সংক্রান্ত সিএসআর (রেগুলেশন) প্রকাশ্যে আসতেই তৃতীয়, পঞ্চম এবং সপ্তম সেমেস্টারের পড়ুয়াদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। বিশেষত, তৃতীয় ও পঞ্চম সেমেস্টারের ছাত্রছাত্রীদের কথায়, কোর্সের মাঝপথে এই বদল না হলেই ভালো হতো। ২০২৬–এর উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ যে সব পড়ুয়া এ বার স্নাতক প্রথম সেমেস্টারে ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতি কার্যকর হলে বিতর্ক কম হতো বলে মানছেন অনেক শিক্ষক–শিক্ষিকাও।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়া বিধিতে বলা হয়েছে, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ও উপস্থিতির নিয়মে নতুন পদ্ধতি চালু হবে। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম এবং ষষ্ঠ সেমেস্টারে প্রতিটি পেপারে থিয়োরিতে ৭৫ মার্কসের পরীক্ষা হবে, এর মধ্যে ৫০ মার্কসের পরীক্ষা নেবে বিশ্ববিদ্যালয়। বাকি ২৫ মার্কসের টিউটোরিয়াল, দায়িত্বে কলেজ। সেই ২৫ মার্কসের মধ্যে ২০ মার্কস বরাদ্দ অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে ও বাকি পাঁচ কলেজে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতির হারের উপরে।
পরীক্ষা নিয়ামকের নেতৃত্বে সোমবার স্নাতকের বোর্ড অফ স্টাডিজে়র চেয়ারপার্সনদের বৈঠকে জানানো হয়েছে, ইন্টারন্যাল অ্যাসেসমেন্ট বা অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন কী ভাবে হবে, তা তাঁদেরই ঠিক করতে হবে। সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানিয়ে দিতে হবে। মাইক্রো বায়োলজির বিওএস চেয়ারপার্সন সাগরময় ঘোষ বলেন, 'বৈঠকে নভেম্বরেই অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে থিয়োরি পরীক্ষার প্রশ্নের ধাঁচও দ্রুত জানাতে হবে। অর্থাৎ, ৫০ মার্কসের পরীক্ষায় কতগুলি করে এক, দুই, তিন এবং চার মার্কসের প্রশ্ন থাকবে, তা জানাতে বলা হয়েছে।' বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক জানান, ৫০ মার্কসের লিখিত পরীক্ষা সেমেস্টারের শেষেই দিতে হবে।
গ্রেড পয়েন্ট গণনার পদ্ধতিতেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত নিয়মে ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ মার্কস পেলে 'ও' (আউটস্ট্যান্ডিং) বা ১০ পয়েন্ট দেওয়া হবে। ৮০-৮৯ শতাংশের জন্য 'এ প্লাস' বা নয় পয়েন্ট (এক্সসিলেন্ট), ৭০-৭৯ শতাংশের জন্যে 'এ' বা আট পয়েন্ট (ভেরি গুড), ৬০-৬৯ শতাংশের জন্যে 'বি প্লাস' বা সাত পয়েন্ট (গুড), এবং শেষে ৩০-৩৯ শতাংশে 'পি' বা চার পয়েন্ট (পাস) গ্রেড মিলবে। ৩০ শতাংশের কমে 'এফ' বা ফেল। পয়েন্ট শূন্য। উপস্থিতির ক্ষেত্রেও স্পষ্ট মার্কস বিভাজন করে দেওয়া হয়েছে। কোনও শিক্ষার্থীর ক্লাসে উপস্থিতির হার ৯০ শতাংশের বেশি হলে তিনি পুরো পাঁচ পাবেন। উপস্থিতি ৮০ থেকে ৮৯%-এর মধ্যে হলে ৪, ৭৫% থেকে ৮০%-এর মধ্যে হলে তিন এবং ৬০% থেকে ৭৫%-এর মধ্যে হলে দুই দেওয়া হবে। ৬০ শতাংশের কম উপস্থিতিতে কোনও মার্কস মিলবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবাশিস দাস বলেন, 'মূল্যায়ন ও উপস্থিতির নিয়ম আগামী অড-সেমেস্টার পরীক্ষা থেকেই রেগুলার ও ব্যাকলগ—উভয় পরীক্ষার্থীদের জন্যে প্রযোজ্য হবে। তবে নতুন গ্রেডিং সিস্টেমের হিসাবটি শুধুমাত্র ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রথম সেমেস্টারে ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। এই নিয়মের ফলে পড়ুয়াদের ক্লাসমুখী হওয়ার প্রবণতা বাড়বে।'