মাদকবিরোধী অভিযান ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। মাদকের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বড় মাদক কারবারিদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন ইশরাক হোসেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে অস্ত্র হাতে মাদক প্রতিরোধে নামতে গিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন তিনি। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইশরাকের পদত্যাগের কারণ সরকারের ব্যাখ্যা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ বলেন, ইশরাক হোসেনের অপরাধ কী, তা স্পষ্ট করা হয়নি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে কারও অপরাধ থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি; পদত্যাগ কোনো সমাধান নয়। নাহিদের এ বক্তব্যের জবাবে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইশরাক।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, নাহিদ ইসলামকে তিনি কিছুটা হলেও নতুন বন্দোবস্তের ধারক মনে করতেন। কিন্তু তাঁর বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে নাহিদ মাদকের ভয়াবহতা ও প্রতিকার নিয়ে কথা না বলে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ইশরাক।
তিনি আরও লেখেন, ‘আগে মাদকের ইস্যুটা এড্রেস করলে ভালো হত না? তারপরে আমারে ফাঁসিতে ঝুলাইতি।’ একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি মন্তব্য করেন, নতুন বন্দোবস্তের প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব ব্যর্থ হচ্ছে।
স্ট্যাটাসে ইশরাক আরও দাবি করেন, সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে এক ব্যক্তি তাঁকে ফোন করে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সঙ্গে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
এনসিপির ভবিষ্যৎ নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন ইশরাক। তাঁর ভাষ্য, মাদক নির্মূলের উদ্যোগ নিতে গিয়ে আইনি জটিলতায় পড়তে হলে এবং সে বিষয়ে রাজনৈতিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরিবর্তনের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।
নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ করে ইশরাক লেখেন, তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ থাকলে মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হোক। তিনি নিজে আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন।
মাদকের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ইশরাক আরও লেখেন, প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। বড় মাদক কারবারি ও বিক্রেতাদের উদ্দেশে তিনি শিগগিরই পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
ইশরাক ও নাহিদ ইসলামের বক্তব্য ঘিরে মাদকবিরোধী অভিযান, আইন প্রয়োগের পদ্ধতি এবং রাজনৈতিক জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
The post নাহিদের উদ্দেশে ইশরাকের কড়া বার্তা appeared first on ভোরের চেতনা.
