সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে থাকা কোডের একটি দুর্বলতাকে কাজে লাগানোর জন্য লাখ লাখ প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই ত্রুটির সুযোগ নিয়ে আক্রমণকারীরা ওয়েব সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, তথ্য চুরি করতে পারে এবং পরিষেবা ব্যাহত করতে পারে।
বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট যে পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, তাতে এই সমস্যাটি বুধবার ধরা পড়ে। এর ফলে বিভিন্ন সরকার ও কোম্পানি তাদের ওয়েবসাইটগুলো ইন্টারনেটের সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে, যাতে আক্রমণের আগেই ত্রুটিটি সংশোধন (প্যাচ) করা যায়।
যুক্তরাজ্যে ৩২টি সরকারি পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে পার্লামেন্টে জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী লিজ লয়েড।
তিনি জানান, সিস্টেম আপডেট করার সময় ‘সতর্কতামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবেই মূলত এগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।
ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। কিছু সীমিত পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে, তবে এর অর্থ এই নয় যে সেগুলো হ্যাক হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিবিসি-র ‘ট্রেইটরস’ অনুষ্ঠানের ওয়েবসাইটটিও বন্ধ ছিল। এই ঘটনাটি স্কুল, স্থানীয় সরকার এবং দাতব্য সংস্থাগুলোর ব্যবহৃত সিস্টেমের দুর্বলতা নিয়ে বিশেষ উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে; কারণ, এসব প্রতিষ্ঠানের হয়তো সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সাইবার নিরাপত্তা সহায়তা ব্যবস্থা নেই।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের সাবেক প্রধান নির্বাহী সিয়ারান মার্টিন এই ত্রুটিটিকে “খুবই খারাপ” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ইন্টারনেটের অধিকাংশ সফটওয়্যারে থাকা দুর্বলতাগুলো তেমন গুরুত্বপূর্ণ না হলেও, এটি “গত পাঁচ বছরের মধ্যে আবিষ্কৃত সবচেয়ে গুরুতর দুর্বলতা”।
তবে সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি ‘ক্যালিফ’-এর গবেষক রায়ান অস্টিন—যিনি এই ত্রুটিটি খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন—জানান, “আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে না যে, এই ত্রুটির সুযোগ নিয়ে বড় ধরনের কোনো আক্রমণ হয়েছে বা এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।”
এই ত্রুটিটি বিভিন্ন দেশের সরকারকে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে। যুক্তরাষ্ট্রের এনএসএ জানিয়েছে, এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আক্রমণকারীরা ওয়েব সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, সংবেদনশীল তথ্য চুরি করতে পারে, পরিষেবা ব্যাহত করতে পারে এবং নেটওয়ার্কের আরও গভীরে প্রবেশ করতে পারে। সরকারি ওয়েবসাইটগুলো দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া হয় যাতে সেগুলোতে প্রয়োজনীয় ‘প্যাচ’ (সফটওয়্যার সংশোধন) ইনস্টল করা যায়; পরবর্তীতে এর অনেকগুলোই আবার সচল হয়ে ওঠে।
বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে দেওয়া এক আপডেটে সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি ‘ক্লাউডফ্লেয়ার’ -এর প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ প্রিন্স জানান, সমস্যাটি ঘোষণার ৪৫ মিনিটের মধ্যেই তাদের সিস্টেমে এই দুর্বলতাকে কাজে লাগানোর কয়েক হাজার প্রচেষ্টা শনাক্ত করা হয়। দুই ঘণ্টার মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় কয়েক লাখে এবং বর্তমানে তা কয়েক কোটিতে (মিলিয়নের ঘরে) পৌঁছেছে।
