Published on
:
2 min read
শিকড় আর স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়ে বিদেশের মাটিতে প্রতি বছরের মতো এ বছরও প্রবাসী বাঙালিরা এক টুকরো বাংলা তুলে ধরেছেন ইউএসএ–র ‘জার্সি সিটি’–র দুর্গাপুজোয় (Durga puja 2026)। গার্ডেন স্টেট পুজো কমিটির (জিএসপিসি) উদ্যোগে আয়োজিত এই পুজো এ বার ৪৫ বছরে পা দিল। শুধু দেবী আরাধনা নয়, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পৌঁছে দেওয়া এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। এ বারের পুজোয় বিশেষ শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে জন্মশতবর্ষে পা রাখা বাংলার তিন কিংবদন্তি উত্তমকুমার, সুকান্ত ভট্টাচার্য ও মহাশ্বেতা দেবীকে।
আগামী ১৬, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর জার্সি সিটির ডিকিনসন হাইস্কুলে হবে পুজোর আয়োজন। এই স্কুলের হলেই এক সময়ে বক্তৃতা দিয়েছিলেন হেলেন কেলার। তিন দিনের উৎসবে থাকছে সঙ্গীতানুষ্ঠানও। কলকাতা থেকে অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন শুভমিতা, অনির্বাণ ভট্টাচার্যের হুলিগানিজ়ম ও অনিন্দ্য বোসরা। পাশাপাশি প্রবাসী বাঙালিদের নাচ, গান ও নাটকেও জমে উঠবে দুর্গোৎসব। ছোটদের কণ্ঠে শোনা যাবে রবীন্দ্রসঙ্গীত ও নজরুলগীতি।
জিএসপিসি-র অন্যতম উদ্যোক্তা স্নেহম বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, উত্তমকুমারের জীবন, সুকান্তের বিদ্রোহী কবিতা এবং মহাশ্বেতা দেবীর লেখায় উঠে আসা আদিবাসী জীবনের নানা দিক নাচ, গান ও নাটকের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। তিন কিংবদন্তিকে ঘিরে থাকছে ১৫ মিনিটের একটি নাটকও। আট থেকে আশি — সব বয়সের মানুষই এই অনুষ্ঠানে শামিল হয়েছেন। সপ্তাহান্তে মহড়ার পাশাপাশি নিয়মিত অনলাইন বৈঠকেও চলছে পরিকল্পনা।
নিজস্ব ছবি এই সময়
এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ সাবেকি ঠাকুরদালান। প্রায় ৮০ ফুট লম্বা ও ২০ ফুট চওড়া এই কাঠামোয় খিড়কি জানলা, গোলাকার দরজা ও পায়রার বাসার মতো বাংলার পুরোনো বাড়ির নানা বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। বাঁশের বদলে পাইপ দিয়ে তৈরি হয় কাঠামোটি। কয়েক মাস ধরে ৪০-৫০ জন মিলে এই কাজ করেন। বাগবাজারের সাবেকি প্রতিমার আদলে তৈরি ফাইবারের দুর্গামূর্তিও জাহাজে করে আনা হয়েছে ইউএসএ–তে। পুজো প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছে যামিনী রায়ের ছবি দিয়ে। দশমীতে অন্তত দেড় হাজার মানুষের সমাগম হয়।
খাওয়াদাওয়ার আয়োজনের নাম রাখা হয়েছে ‘বঙ্গভোজ’। খিচুড়ি-লাবরার পাশাপাশি থাকে বিরিয়ানি, পাঁঠার মাংসও। তবে উৎসবের আনন্দ শুধু নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না উদ্যোক্তারা। কলকাতার একটি অনাথ আশ্রম এবং গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনের গদাধর পাঠশালাকে আর্থিক সাহায্য করেন তাঁরা। কোভিড ও যশের মতো বিপর্যয়ের সময়েও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল এই সংগঠন। প্রবাসে থেকেও তাই পুজোর মধ্য দিয়ে বাংলার ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা — দু'টিকেই সমান গুরুত্ব দিতে চান জার্সি সিটির বাঙালিরা।
