নবম পে-স্কেল ২০২৬ কার্যকর হলে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের বকেয়া পাওনার পরিমাণ নির্ধারণে মূল বেতন, বাড়িভাড়া, বিশেষ সুবিধা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য বিবেচনায় নিতে হবে। এ হিসাব সহজ করতে তৈরি করা হয়েছে একটি এইচটিএমএলভিত্তিক বকেয়া বেতন ক্যালকুলেটর, যার মাধ্যমে সম্ভাব্য বকেয়ার পরিমাণ নির্ণয় করা যাবে।
ক্যালকুলেটরটির সাহায্যে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন মূল বেতন, মাসিক বেতনের পার্থক্য, বাড়িভাড়া সমন্বয় এবং নির্ধারিত সময়ের মোট বকেয়ার হিসাব দেখতে পারবেন। এটি মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজারে চালানো যাবে। ফাইলটি একবার সংরক্ষণ করে নিলে হিসাব করার জন্য ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হবে না।
ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে প্রথমে নাম, পদবি ও অফিসের নাম লিখতে হবে। এসব তথ্য দেওয়া ঐচ্ছিক। তবে হিসাবের বিবরণী প্রিন্ট করার ক্ষেত্রে তথ্যগুলো কাজে আসবে।
এরপর ২০১৫ সালের বেতন স্কেল অনুযায়ী ২০২৬ সালের ৩০ জুনে কার্যকর গ্রেড নির্বাচন করতে হবে। পে-স্লিপ অনুযায়ী ওই তারিখের মূল বেতন এবং ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ পুরোনো বেতন কাঠামোর মূল বেতন নির্ধারিত ঘরে দিতে হবে। তালিকায় মূল বেতনের পরিমাণ না থাকলে নিজে তা লিখে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
পরবর্তী ধাপে কর্মস্থল নির্বাচন করতে হবে। এর ভিত্তিতে বাড়িভাড়ার হার নির্ধারিত হতে পারে। প্রয়োজনে পে-স্লিপের তথ্য অনুযায়ী তা সংশোধন করা যাবে। বকেয়ার সময়কাল সাধারণত জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাস ধরে হিসাব করা হলেও ক্যালকুলেটরে এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় নির্বাচন করার সুযোগ রয়েছে।
১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চাকরির মেয়াদ ছয় মাস পূর্ণ না হলে ইনক্রিমেন্টের ঘরে থাকা টিক চিহ্ন তুলে দিতে হবে। এ ছাড়া পে-স্লিপে উল্লেখিত বাড়িভাড়া বা বিশেষ সুবিধার পরিমাণ ক্যালকুলেটরের নির্ধারিত হিসাব থেকে আলাদা হলে প্রকৃত অঙ্ক বসানো যাবে। নতুন মূল বেতনের পরিমাণ জানা থাকলে সেটিও নির্দিষ্ট ঘরে দিয়ে হিসাব যাচাই করা সম্ভব।
ক্যালকুলেটরে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নতুন মূল বেতন, পুরোনো ও নতুন বেতনের পার্থক্য, বাড়িভাড়ার সমন্বয় এবং বিশেষ সুবিধা বাদ দেওয়ার পর সম্ভাব্য বকেয়ার হিসাব দেখানো হবে। ক্যালকুলেটরের বর্ণনা অনুযায়ী, গ্রেড ১০ থেকে ২০-এর ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ এবং গ্রেড ১ থেকে ৯-এর ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধির ভিত্তিতে নতুন মূল বেতনের প্রাথমিক হিসাব দেখানো হবে। তবে এসব হার ও হিসাবের ভিত্তি সরকারি প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
হিসাব সম্পন্ন হলে ‘বিবরণী প্রিন্ট করুন’ বোতামে ক্লিক করে হিসাবের কপি প্রিন্ট করা যাবে। চাইলে বিবরণীটি পিডিএফ হিসেবেও সংরক্ষণ করা যাবে। এতে বকেয়ার হিসাবের বিস্তারিত তথ্য একসঙ্গে পাওয়া যাবে।
ক্যালকুলেটর ব্যবহারের আগে এর ‘স্কেল টেবিল’ অংশটি সরকারি গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এসআরও নং ৩৪৭-আইন/২০২৬-এর উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি নিজের গ্রেড, মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট, কর্মস্থল ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে।
তবে ক্যালকুলেটরে দেখানো অঙ্ককে চূড়ান্ত পাওনা হিসেবে বিবেচনা করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রজ্ঞাপন, গেজেট, পে-স্লিপ এবং বকেয়া পরিশোধসংক্রান্ত নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়া, বকেয়া পাওনার সময়কাল এবং নির্ধারিত হিসাবপদ্ধতি সম্পর্কে সরকারি সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
এমএম/
