ছবি: সংগৃহীত
-->এলাকার কয়েকজন যুবক মিলে গড়ে তোলা সামাজিক সংগঠনগুলো সাধারণত শীতবস্ত্র বিতরণ, রক্তদান, বন্যাত্রাণ ও শিক্ষা সহায়তার মতো কাজ করে। উৎসবের মৌসুমে অনেক সময় তাদের সামনে একটি প্রশ্ন আসে: বিভিন্ন পূজামণ্ডপের জন্য চাঁদা তোলা, চাঁদা দেওয়া কিংবা এ কাজে সহযোগিতা করা কি শরিয়তসম্মত?
উত্তরের শুরুতেই একটি প্রশ্ন জরুরি: সংগঠনের সদস্যরা কোন ধর্মের অনুসারী? কারণ বিধান নির্ভর করে করছেন কে এবং কী উদ্দেশ্যে, তার ওপর।
১. মুসলিমদের জন্য মূল বিধান
প্রচলিত ও প্রধান ফিকহি মতে, মুসলিমের জন্য অন্য ধর্মের উপাসনা বা ধর্মীয় আচারের খরচ বহন করা, সেজন্য চাঁদা সংগ্রহ করা বা চাঁদা দেওয়া বৈধ নয়। এর পেছনে কয়েকটি মৌলিক নীতি কাজ করে।
ক. ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যের নীতি। কোরআনে বলা হয়েছে, তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন, আমার জন্য আমার দ্বীন। (সুরা আল-কাফিরুন,৬)। এই আয়াত প্রত্যেকের ধর্মপালনের স্বাধীনতা স্বীকার করে, আবার নিজের বিশ্বাসের সীমানাও স্পষ্ট করে। অন্যের উপাসনার আয়োজনে অংশ নেওয়া এই সীমানা অস্পষ্ট করে দেয়।
খ. পাপের কাজে সহযোগিতা নিষেধ। আল্লাহ বলেন, তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো; পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করো না। (সুরা আল-মায়িদা,২)। ইসলামের তাওহিদি বিশ্বাস অনুযায়ী মূর্তিপূজা শিরক। তাই এর আয়োজনে অর্থ দিয়ে সহায়তা করা এই আয়াতের নিষেধের আওতায় পড়ে বলে ফকিহগণ মনে করেন।
গ. ইমানের সুরক্ষা। অন্য ধর্মের উৎসবে আর্থিক অংশগ্রহণ থেকে আকিদাগত বিভ্রান্তির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এ কারণে আলেমগণ এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন।
২. যদি সংগঠনে অমুসলিম সদস্য থাকেন
সংগঠনে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সদস্য থাকলে তারা নিজেদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে চাঁদা তুলতে পারেন। এটি তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতার অংশ, যা ইসলাম স্বীকৃতি দেয়। কোরআন বলছে, দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। (সুরা আল-বাকারা, ২৫৬)। তবে শর্ত হলো:
মুসলিম সদস্যরা এই চাঁদা সংগ্রহে বা আদায়ে অংশ নেবেন না। চাঁদাদাতারা হবেন অমুসলিম সম্প্রদায়ের লোক। এই কাজ মুসলিমদের সামাজিক সংগঠনের তহবিল বা নামের সঙ্গে মিশে যাবে না।
মুসলিমদের জন্য পূজার চাঁদা তোলা বা দেওয়া প্রধান ফিকহি মতে জায়েজ নয়। অমুসলিম সদস্যরা নিজেদের সম্প্রদায়ের মধ্যে এটি করতে পারেন। অন্যদিকে সাধারণ মানবিক ও সামাজিক সহযোগিতায় কোনো বাধা নেই, বরং তা উৎসাহিত। নিজের বিশ্বাসে অটল থেকে প্রতিবেশীর প্রতি ন্যায় ও সদাচরণ বজায় রাখাই ইসলামের শিক্ষা।
