নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বুধবার সন্ধ্যায় প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে শেয়ালের কামড়ে নারীসহ ১১ জন আহত হয়েছেন; তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং হাসপাতালে পর্যাপ্ত জলাতঙ্কের টিকা মজুত রয়েছে।
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে শেয়ালের কামড়ে নারী-পুরুষসহ ১১ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। আহতরা বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আহতরা হলেন মিঠু (৫০), আক্তার (৬২), স্বাধীন (২৭), পলি (১৮), আসলাম (৪৭), ইমরান (৪২), রিজিয়া (৫০), নাজনিন (৪২), মাইনুল (৫০), বাধন (১৮) ও আকরামুল (৫২)। তাঁরা বাগাতিপাড়া পৌরসভার ঘোরলাজ, নওশেরা, বারইপাড়া, সোনাপাতিল ও পেড়াবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
আহতদের মধ্যে পলি নামের এক নারী রয়েছেন। তিনি উপজেলা চত্বর এলাকায় হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে শেয়ালের কামড়ের শিকার হন বলে জানা গেছে।
পেড়াবাড়িয়া মহল্লার বাসিন্দা ও ওষুধ ব্যবসায়ী ইমরান জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাসা থেকে কিছু কেনার উদ্দেশ্যে মালঞ্চি রেলস্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। স্টেশনের পাশের ইক্ষু ক্রয়কেন্দ্র এলাকায় পেছন থেকে হঠাৎ একটি শেয়াল তাঁর হাতে কামড় দেয়। এ সময় তিনি চিৎকার করলে পথচারী ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে শেয়ালটি পালিয়ে যায়।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. শামুন আল হাসান সৌমিক জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে শেয়ালের কামড়ে আহত প্রথম রোগী হাসপাতালে আসেন। এরপর একে একে আরও রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে মোট ১১ জন শেয়ালের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
চিকিৎসক আরও জানান, শেয়ালের কামড়ের শিকার হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ক্ষতস্থান সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে। হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে বলেও জানা গেছে।
