মোঃ মনির হোসেন সোহেল, চাটখিল প্রতিনিধিঃ
ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অধিকার, চাকরির নিরাপত্তা ও কল্যাণে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গঠনের আহ্বানে বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভস অ্যালায়েন্স (ফারিয়া) চাটখিল উপজেলা শাখার সাধারণ সভা, বর্ষপূর্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার রোববার ১৮ অক্টোবর (রবিবার) সন্ধ্যায় কাচ্চি ডাইনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, চাকরির নিরাপত্তা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং কল্যাণমূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ফারিয়ার সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নজির আহমেদ হারুন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ফারিয়ার সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাটখিল উপজেলা ম্যানেজার্স ফোরামের সভাপতি ওমর ফারুক, নোয়াখালী জেলা ফারিয়ার আহ্বায়ক ওসমান গণি জসিম এবং সদস্যসচিব এম এ হাসনাত ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাটখিল উপজেলা ফারিয়ার সভাপতি মিজানুর রহমান। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন সোহেল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চাটখিল উপজেলা ফারিয়ার সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজির আহমেদ হারুন বলেন, সরকারি নিবন্ধন প্রাপ্তির মাধ্যমে ফারিয়া একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত পরিচিতি লাভ করেছে। এর ফলে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করা, প্রতিনিধিদের অধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরা এবং বৃহত্তর পরিসরে যোগাযোগ ও সংলাপের সুযোগ তৈরির পথ প্রসারিত হয়েছে।
তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেমিনার ও আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের জন্য সময়োপযোগী একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সারা দেশের প্রতিনিধিরা প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত সহায়তা, জরুরি যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বীমা-সুবিধার তথ্য ও আওতাভুক্তির সুযোগ পেতে পারেন। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং তাঁদের কল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
চাকরির নিরাপত্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কর্মজীবনে স্থিতিশীলতা, ন্যায্য অধিকার ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। মেডিকেল ইনফরমেশন বিভাগ থেকে শুরু করে জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) পর্যায় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা এবং পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দেশের ওষুধশিল্পের উন্নয়নে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই তাঁদের শ্রম, দায়িত্ব ও অবদানকে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, মানবিক আচরণ এবং কল্যাণমূলক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংগঠন, ওষুধ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও গঠনমূলক আলোচনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সাধারণ সভার আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত সদস্যদের অংশগ্রহণে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানটি সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও সাংগঠনিকব বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় নিয়ে শেষ হয়।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
