আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফের গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ল বেলডাঙ্গার 'জলমানব' ইকবাল হোসেন। প্রায় এক মাসের বেশি সময় মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গার বাড়িতে ফিরেছিল ইকবাল। তবে উৎসবের মরশুমে ফের একবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে ইকবাল। বর্তমানে বাড়িতেই সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে প্রত্যেকদিন ইকবালের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
প্রসঙ্গত, গত মাসখানেক ধরে ইকবাল বাড়ি ছেড়ে পুকুরেই থাকত। সকাল থেকে রাত দু'টো তিনটে পর্যন্ত তাঁকে পুকুরে ভাসতে দেখা যেত। পাড়ার লোকেরাই তাঁকে পুকুরের মধ্যে খাবার দিত। জলে ভেসে থাকতে থাকতে খাবার খেয়ে নিতো ইকবাল।
সেই সময় ইকবাল জানিয়েছিল জল থেকে উঠলেই কোনও পরী, জিন অথবা আত্মা এসে তাঁর ওপর ভর করে এবং সারা শরীরে আগুনের মত জ্বালা শুরু হয়ে যায়। তাই বাধ্য হয়ে সে জলে থাকে।
ইকবালের শারীরিক অসুস্থতার খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হতেই রিলায়েন্স গোষ্ঠীর তরফ থেকে তাঁর চিকিৎসার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সূত্রের খবর, মুকেশ আম্বানির পুত্র অনন্ত আম্বানি , ইকবালের শারীরিক সমস্যার কথা জানার পর বিচলিত হয়ে পড়েন এবং তাঁর প্রচেষ্টায় রিলায়েন্সের আধিকারিকরা মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গার বাড়ি থেকে ইকবালকে মুম্বাই নিয়ে গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য।
আগস্ট মাস থেকে প্রায় এক মাসের বেশি সময় ইকবাল মুম্বাইতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর রিলায়েন্স গোষ্ঠীর ডাক্তারদের তত্ত্বাবধানে বহরমপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইকবালের চিকিৎসা চলছিল। ইকবালের পরিবারের সূত্রের খবর রিলায়েন্স গোষ্ঠীর সহায়তায় তাঁকে নিয়মিত কয়েকটি দামি ইঞ্জেকশন দেওয়া হচ্ছিল। তবে এই চিকিৎসাতেও ইকবালের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ার পরিবর্তে গত কয়েকদিনে হঠাৎ করেই অবনতি হতে শুরু করেছে বলে তাঁর পরিবারের দাবি।
এখন নিজের শয্যা ছেড়ে ওঠার ক্ষমতা পর্যন্ত নেই বেলডাঙ্গার 'জলমানব', ইকবালের।
ইকবালের পরিবারের সূত্র জানানো হয়েছে গত কয়েকদিনে তাঁর শারীরিক অসুবিধা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ করেই ওজন বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। সেই কারণে সে স্বাভাবিক চলাফেরার ক্ষমতা প্রায় হারিয়ে ফেলেছে। দিনের বেশিরভাগ সময়ে বাড়ির উঠোনে বা বারান্দায় শুয়ে থাকছে।
বিছানায় শুয়ে ইকবাল বলেন," বহরমপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগা হওয়ার জন্য আমার চিকিৎসা চলছে। যদিও রোগা হওয়ার পরিবর্তে আমি ফের একবার মোটা হয়ে যাচ্ছি, আর সারা শরীর অসহ্য যন্ত্রণা।"
তিনি বলেন,"যে হারে আমার ওজন বাড়ছে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা বাড়ছে তাতে মনে হচ্ছে গোটা শরীর ফুলে ফেটে যাবে। এইভাবে চলতে থাকলে আমি বেশিদিন বাঁচতেও পারবো না।"
ইকবাল আরও বলেন," গত ২৪ ঘন্টায় আমার শারীরিক সমস্যা অত্যাধিক বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে চলাফলের ক্ষমতা প্রায় হারিয়ে ফেলেছি। মুম্বাইয়ের ডাক্তার ফোনে নতুন করে কিছু ওষুধের নাম লিখে দিয়েছেন। কিন্তু সেই ওষুধ আমাকে নিজে থেকেই কিনতে হচ্ছে। আমার আর্থিক অবস্থা ভাল না হওয়ার কারণে সমস্ত ওষুধ কেনা এবং দৈনন্দিন খাবার জোগাড় করা পরিবারের পক্ষে অসুবিধার হয়ে পড়েছে। "
https://www.youtube.com/watch?v=JwFdq_tA9cE
