কৃষকদের ভাষ্য, সামনে সেচ ও সার প্রয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সময় থাকলেও বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে আলুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
কৃষকেরা জানান, সমতল এলাকার তুলনায় চরাঞ্চলের জমিতে আলু চাষের জন্য সার ও সেচের প্রয়োজন বেশি হয়। ফলে প্রতি বিঘা জমিতে আলু রোপণ থেকে শুরু করে ফসল তোলা পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। বর্তমান বাজারদরে সার ও সেচের খরচ গত কয়েক বছরের তুলনায় বিঘাপ্রতি কয়েক হাজার টাকা বেড়েছে বলে তাঁদের দাবি। এর সঙ্গে বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি যোগ হওয়ায় মোট উৎপাদন খরচ আরও বাড়ছে।
হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের আলুচাষি মহুবার বলেন, “সার ও সেচের যে দাম, তাতে এবার আলু চাষ করে লাভ তোলা দূরে থাক, আসল টাকা উঠবে কি না, তা নিয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারছি না। গত বছরও ন্যায্যমূল্য পাইনি, এবার খরচ আরও বেশি।”
কৃষকদের আশঙ্কা, উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে আলুর দাম কম থাকলে ঋণ ও ধারদেনা করে চাষ করা কৃষকেরা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন। বিশেষ করে বর্গাচাষিদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কারণ, জমির খরচ ও উৎপাদন ব্যয় মিটিয়ে ফসল বিক্রির অর্থ থেকে লাভ করা তাঁদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
কৃষিসংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন খরচ ক্রমাগত বাড়তে থাকলে কৃষকেরা আলু চাষে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার ও সেচের খরচ পর্যবেক্ষণ, কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং কৃষিপণ্যের বাজারব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি। একই সঙ্গে আলু উত্তোলনের মৌসুমে কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ ও চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হারুন মিয়া বলেন, “নিউজ করবেন ভালো কথা, কিন্তু সব বিষয়ে কি বক্তব্য দিতে হবে।” কৃষকদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উৎপাদন খরচের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এতে একদিকে কৃষকের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে আলু উৎপাদন অব্যাহত রাখা সহজ হবে।
The post সার-সেচের বাড়তি খরচে দিশেহারা লালমনিরহাটের আলুচাষিরা, লোকসানের শঙ্কা appeared first on ভোরের চেতনা.
