নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণে প্রতি কোর্সে ২০০ টাকা ফি নির্ধারণ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে স্বাক্ষর পেতে বিলম্বের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই এ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রান্সক্রিপ্ট, চারিত্রিক সনদ ও বিভিন্ন আবেদনপত্রে স্বাক্ষর পেতে তিন কার্যদিবস বা তার বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের।
সম্প্রতি পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বিভাগের সব শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য প্রতি কোর্সে ২০০ টাকা বিভাগীয় হিসাব নম্বরে জমা দিতে বলা হয়। আবেদনের সঙ্গে ব্যাংক রসিদের মূল কপি জমা দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। নোটিশ অনুযায়ী, আবেদন করার পরবর্তী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ফলসংক্রান্ত তথ্য জানানো হবে।
এ সিদ্ধান্তের বিধিগত ভিত্তি ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য, নম্বর গণনায় ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য কেন ফি দিতে হবে এবং অর্থ জমা দেওয়ার পরও কেন ১০ কার্যদিবস অপেক্ষা করতে হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। এ ছাড়া ফি নির্ধারণের আগে কোনো একাডেমিক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৬তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধানে স্পষ্ট ভিত্তি ছাড়াই ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য ২০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্য বিভাগে এমন নিয়ম রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। নম্বর গণনায় ভুল সংশোধনের জন্য অর্থ আদায়ের এখতিয়ার এবং ফি দেওয়ার পরও ১০ কার্যদিবস অপেক্ষার কারণ স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, একটি স্বাক্ষরের জন্য তিন দিন অপেক্ষা করতে হলে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও একাডেমিক পরিকল্পনা ব্যাহত হয়। বিশেষ করে অন্য শহরে অবস্থান করা সাবেক শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের বিলম্ব বাড়তি ভোগান্তির কারণ হতে পারে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ট্রান্সক্রিপ্ট উত্তোলন, চারিত্রিক সনদ সংগ্রহ ও বিভিন্ন আবেদনপত্রে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর নিতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি অপেক্ষা করতে হয়। বিভাগ থেকে এসব কাজের জন্য ন্যূনতম তিন কার্যদিবস সময়ের কথা জানানো হয় বলে দাবি তাদের। ফলে জরুরি প্রয়োজনে কোনো সনদ সংগ্রহ করতেও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এ ছাড়া ট্রান্সক্রিপ্ট পেতে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হলেও অতিরিক্ত ১০০ টাকা দিলে এক দিনের মধ্যে তা পাওয়া যায় বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রশ্ন, নিয়মিত সেবা পেতে বিলম্বের পর অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা কতটা যৌক্তিক।
শিক্ষার্থীরা জানান, ১৬তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী বিশেষ প্রয়োজনে আবেদন করার পরও স্বাক্ষর পেতে সাত দিন অপেক্ষা করেছেন। ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় থাকায় গতবার তাদের সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের পরিকল্পনাও ব্যাহত হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য
ফল পুনঃনিরীক্ষণের ফি নির্ধারণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো নিয়ম নেই। এটা পুরোপুরি নিয়মবহির্ভূত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।’
বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এমন কোনো সিদ্ধান্ত একাডেমিক মিটিংয়ে আলোচনা হয়নি। এটা হতে পারে বিভাগের একান্ত কোনো সিদ্ধান্ত।’
অভিযোগের বিষয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমা বেগমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি; বরং দুইবার ফোন কেটে দেন। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘বিভাগ থেকে এমন নিয়ম তৈরি করার সুযোগ নেই। আমি ওই বিভাগের চেয়ারম্যানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলব।’
শিক্ষার্থীদের দাবি, ফল পুনঃনিরীক্ষণের ফি নির্ধারণের বিধিগত ভিত্তি এবং আদায় করা অর্থের ব্যবহারের হিসাব প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কাজে অযথা বিলম্ব বন্ধ করে দ্রুত, স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
