Published on
:
2 min read
দাঁতের চিকিৎসার আগে ও পরের ছবি দিয়ে প্রচার, রোগীর প্রশংসাপত্র প্রকাশ বা চিকিৎসার সাফল্য নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি — সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে এ ধরনের প্রচার নিয়ে দন্ত্য চিকিৎসকদের সতর্ক করল ন্যাশনাল ডেন্টাল কমিশন (এনডিসি)। পেশাগত নীতি–নৈতিকতা লঙ্ঘন করে রোগী টানার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হতে পারে। এমনকী, ডেন্টাল রেজিস্টার থেকে নাম সাময়িক ভাবে বাদ দেওয়ার সংস্থানও রয়েছে।
বুধবার জারি করা নির্দেশিকায় দেশের সমস্ত নথিভুক্ত ডেন্টিস্টকে বিজ্ঞাপন, রোগী সংগ্রহ, গোপনীয়তা ও পেশাগত প্রচারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে কমিশনের এথিক্স অ্যান্ড ডেন্টাল রেজিস্ট্রেশন বোর্ড। রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং দন্ত্য চিকিৎসা পেশার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখাই এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য।
কোন কোন প্রচারে আপত্তি?
কমিশনের নির্দেশিকায় কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে, রোগীর সঙ্গে পরামর্শের সময়ে বা দাঁতের চিকিৎসা চলাকালীন স্টিল ফটো বা ভিডিয়ো রেকর্ড করে পরে তা সম্প্রচার করা, চিকিৎসার আগে ও পরের ছবি প্রকাশ করে পরিষেবার প্রচার এবং রোগীর প্রশংসাপত্রকে বিজ্ঞাপনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা। চিকিৎসার ফলাফল সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর দাবি করা, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ভুল তথ্য ছড়ানো বা নিজেদের দক্ষতা ও সাফল্যকে অতিরঞ্জিত করে তুলে ধরাও পেশাগত নীতির পরিপন্থী হতে পারে। প্রচারের জন্য অনুপযুক্ত ভাবে বড় সাইনবোর্ড ব্যবহার করার বিষয়েও সতর্ক করেছে কমিশন।
দাঁতের চিকিৎসকদের ২০১৪–র সংশোধিত পেশাগত আচরণবিধির ভিত্তিতেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেই আচরণবিধির ষষ্ঠ অধ্যায়ের ৮.১, ৮.২ ও ৮.৩ ধারায় পেশাগত নৈতিকতা, বিজ্ঞাপন ও রোগী সংগ্রহের বিষয়গুলি উল্লেখ রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও সেই বিধি মেনে চলতে হবে বলে স্পষ্ট করেছে কমিশন।
চিকিৎসকদের বিজ্ঞাপনেও কড়াকড়ি:
এর আগে চিকিৎসকদের বিজ্ঞাপনেও কড়াকড়ি এনেছে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি)। দাঁতের চিকিৎসকদের নিয়ে এই সতর্কবার্তার কয়েক দিন আগেই, ৬ অক্টোবর চিকিৎসক ও হাসপাতালের বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে এনএমসি। সেখানেও রোগীর প্রশংসাপত্র, ভুয়ো রিভিউ, ‘সেরা চিকিৎসক’ বা ‘১০০ শতাংশ সাফল্য’-র মতো যাচাইবিহীন দাবি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়েছে। জনপ্রিয়তা বাড়াতে ভুয়ো লাইক, রেটিং বা ফলোয়ার ব্যবহার এবং ছাড়, উপহার বা ক্যাশব্যাকের প্রলোভন দেখিয়ে রোগী টানার বিষয়েও বিধিনিষেধের কথা জানানো হয়েছে।
মেডিক্যাল কমিশনের দেখানো সেই একই পথে হাঁটল এ বার ডেন্টাল কমিশনও। দুই কমিশনের নির্দেশিকারই লক্ষ্য, চিকিৎসার নামে বাণিজ্যিক প্রচারের মাধ্যমে রোগীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টায় লাগাম টানা। ডেন্টাল কমিশনের নির্দেশিকা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী ডেন্টাল রেজিস্টার থেকে সাময়িক নাম কেটে দেওয়ার মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।