রাজ্য সরকারি কর্মীদের পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মেটানো নিয়ে মামলা ফের উঠতে চলেছে সুপ্রিম কোর্টে। আগামী ২৭ অক্টোবর বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখরের বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। কিন্তু এই মামলায় বকেয়া ডিএ পাওয়ার প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত (গ্রান্ট ইন এইড) প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের মধ্যে। সরকারি আর্থিক অনুদানে চলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুরসভা-পঞ্চায়েত এবং বিভিন্ন স্বশাসিত সরকারি সংস্থার কর্মী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে ইন্দু মলহোত্র কমিটির সাম্প্রতিক রিপোর্টে কোনও উল্লেখ নেই বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির। ফলে তাঁদের প্রাপ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। আগামী ডিসেম্বরে মলহোত্র কমিটির সঙ্গে মামলার বিভিন্ন পক্ষের প্রস্তাবিত বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। আপাতত সেই বৈঠক ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং পেনশনভোগীরা।
সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় 'গ্রান্ট ইন এইড' প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। সরকারি একটি সূত্রের দাবি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারকে পরিষেবা দেওয়া এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে কর্মীর সংখ্যা প্রায় আট লক্ষ। তাঁদের একাংশের বক্তব্য, রাজ্য সরকারি দফতরের কর্মী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যে প্রক্রিয়া চলছে, তার সুফল তাঁরা আদৌ পাবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ, এই প্রতিষ্ঠানগুলির কর্মীদের বেতন ও পেনশন প্রদানের পদ্ধতি সরকারি দফতরের কর্মীদের থেকে আলাদা। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টে চলা মামলায় তাঁদের বিষয়টি সরাসরি বিবেচনার জন্য ওঠেনি। চলতি মাসের ১৬ অক্টোবর মামলাটির সংক্ষিপ্ত শুনানি হয়েছিল। ইন্দু মলহোত্র কমিটির কাছে নিজেদের বক্তব্য পেশের সুযোগ চেয়ে একটি সরকারি কর্মচারী সংগঠনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই শুনানি হয়। বকেয়া ডিএ-র মূল বিষয় নিয়ে সে দিন শুনানি হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মলহোত্রের নেতৃত্বাধীন কমিটি ইতিমধ্যেই আরও একটি রিপোর্ট সর্বোচ্চ আদালতে জমা দিয়েছে। সেই রিপোর্টে 'গ্রান্ট ইন এইড' প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের প্রসঙ্গ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সংগঠনগুলির মধ্যে।
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্পষ্ট বলা আছে, রোপা ২০০৯-এর আওতাভুক্ত সরকারের সমস্ত কর্মচারী বকেয়া ডিএ পাবেন। এমনকি, রাজ্য সরকারও ১৩ মার্চ নির্দেশ দিয়ে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী-সহ গ্রান্ট ইন এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। তা হলে বিভাজন কেন? মলহোত্র কমিটির দোহাই দেওয়া হচ্ছে কেন?” তাঁর আরও দাবি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে মুখ্যমন্ত্রী যেন ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত এক কিস্তি বকেয়া ডিএ মেটানোর ব্যবস্থা করেন। তা না হলে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও গ্রান্ট ইন এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষোভ সামলানো কঠিন হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। কর্মচারী সংগঠনগুলির নেতারা জানিয়েছেন, পরবর্তী শুনানিতে গ্রান্ট ইন এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের বিষয়টি তোলার চেষ্টা করা হবে। আগামী ডিসেম্বরে মলহোত্র কমিটির সঙ্গে মামলার বিভিন্ন পক্ষের প্রস্তাবিত বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। আপাতত সেই বৈঠক ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং পেনশনভোগীরা। তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া ডিএ-র প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান সামনে আসে কি না, এখন সেটাই দেখার।
