কালবেলা · সাধারণ
দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতিতে দারিদ্র্যসীমার নিচে ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ
২১/১০/২০২৬

দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির চাপে দেশে প্রায় ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, পতিত সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে বর্তমান সরকার। মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম চাপে পড়েছে। অনেক মানুষকে নিজেদের সঞ্চয় ভাঙতে হয়েছে, এমনকী সংসার চালাতে ঋণও করতে হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ী পৌর মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানি সংকট দেশের অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। দুর্বল বিনিয়োগ পরিস্থিতির কারণে কর্মসংস্থান কমেছে। বিশেষ করে যুব বেকারত্ব ও শিক্ষিত বেকারত্ব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার সংস্কার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রক্ষেপণকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তবে সরকার নিজস্ব অগ্রাধিকার অনুযায়ী সংস্কার কর্মসূচি নির্ধারণ করেছে। এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।
উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় সংস্থা সরকারের সংস্কার উদ্যোগে আস্থা প্রকাশ করেছে। সরকার ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদারে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে উন্নীত করা। এ জন্য ব্যক্তি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংকের সহযোগিতায় ব্যক্তি খাতে আরও অর্থপ্রবাহ বাড়ানোর প্রত্যাশা করছে সরকার। পাশাপাশি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দারিদ্র্য মোকাবিলায় ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। উপদেষ্টার মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং নতুন করে মানুষকে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়া থেকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। দক্ষ জনশক্তি তৈরি, শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটাতে চায় সরকার।
দেশে টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে উৎপাদন ও রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
তার মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিনিয়োগের অন্যতম পূর্বশর্ত। এ ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা কমানো, দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ কলকারখানা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ সম্ভব হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং পুনর্গঠনের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ধাপে ধাপে সংস্কার বাস্তবায়ন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ করা হবে।
মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ওপর যাতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক, আব্দুস সালাম মিয়াসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗