ভোলার সদর উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে এক বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে গণপিটুনির শিকার মো. আসিব (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোরে ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়।
নিহত আসিব উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেদুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম ধলু হাওলাদার।
ছুরিকাঘাতে আহত বিএনপি নেতা হোসেন হাওলাদার রাজাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং ওই ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে রাজাপুর ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে নির্জন একটি স্থানে কয়েকজনকে নিয়ে লুডু খেলছিলেন আসিব। এ সময় বিএনপি নেতা হোসেন হাওলাদার কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গিয়ে তাদের বাধা দেন এবং ওই স্থানে লুডু খেলতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে তারা যার যার মতো চলে যান।
এরপর আসিব স্থানীয় আনন্দবাজারে গেলে সেখানে আগে থেকে উপস্থিত থাকা হোসেন হাওলাদারের সঙ্গে তার আবারও বাগবিতণ্ডা হয়। এর জেরে আসিব ধারালো ছুরি দিয়ে হোসেন হাওলাদারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি বাড়িতে চলে যান।
আহত বিএনপি নেতাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে স্বজনেরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যান।
অন্যদিকে, রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আসিব বাড়ি থেকে বের হয়ে আনন্দবাজারে এলে তাকে ঘিরে গণপিটুনি দেওয়া হয়। আহত বিএনপি নেতার অনুসারী, স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন বলে জানা গেছে।
ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা রাত ১১টার দিকে আসিবকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকায় নেওয়া হয়। পরে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে একটি পিকআপে করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, লাশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠাতে হাসপাতালে থানা-পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বিস্তারিত জানেন।
ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বশির আলম বলেন, স্থানীয়রা একজনকে মারধর করে গুরুতর আহত করেছেন বলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রাত ১১টার দিকে আসিবকে উদ্ধার করে প্রথমে ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকায় নেওয়া হয়। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে পিকআপে করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।