কিশোরীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে আটক রোবট
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
জব্দ করা রোবট
-->জার্মানির কোলোনে ১৬ বছর বয়সি কিশোরীকে অশালীনভাবে স্পর্শ ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ অঙ্গভঙ্গির অভিযোগে একটি মানবাকৃতির রোবট জব্দ করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ১৬ ও ১৯ বছর বয়সি দুই তরুণের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শ্লীলতাহানি বা যৌন হয়রানির অভিযোগ সাধারণত মানুষের বিরুদ্ধে ওঠে। কিন্তু এবার জার্মানিতে এক মানবাকৃতির রোবটকে ঘিরে এমনই একটি অভিযোগ সামনে এসেছে।
অভিযোগ, ফাস্টফুডের দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এক কিশোরীর কাছে গিয়ে তাকে অশালীনভাবে স্পর্শ করে রোবটটি। এরপর সেটি যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ অঙ্গভঙ্গিও করে।
আরও পড়ুন
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে ঘটনাটি ঘটে। সে সময় ১৬ বছর বয়সি ওই কিশোরী দুই বান্ধবীর সঙ্গে দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
অভিযোগ, প্রায় ১ দশমিক ২ মিটার উচ্চতার একটি লাল-সোনালি রঙের মানবাকৃতির রোবট পিছন দিক থেকে তার কাছে এসে নিতম্বে স্পর্শ করে এবং শরীর ঠেলে দেওয়ার মতো অঙ্গভঙ্গি করে। ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন কিশোরীটি।
‼️BREAKING: German police seized a robot that sexually assaulted a 16-year-old girl by touching her ass and making thrusting motions at her. Officers found it stashed in the boot of a Volkswagen. Its 16-year-old owner and a 19-year-old companion allegedly livestreamed it. https://t.co/MTUBuXcgtT
— International Cyber Digest (@IntCyberDigest) October 12, 2026
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রোবটটির ১৬ বছর বয়সি মালিক এবং তার ১৯ বছর বয়সি এক সঙ্গী ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তারা ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারও করেন।
ভিডিওতে রোবটটির অশালীন আচরণ দেখা গেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ একটি গাড়ির ডিকি থেকে রোবটটিকে জব্দ করে। তদন্তের স্বার্থে রোবটটির পাশাপাশি ওই দুই তরুণের মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ অপমানের অভিযোগে তদন্ত চলছে। তবে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, দুই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি। সূত্র: সিবিএস নিউজ
অমিয়/
আরও পড়ুন
বৈশ্বিক স্মৃতিভ্রমের হার নারী ও দরিদ্র দেশগুলোতে বেশি: গবেষণা
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর নতুন করে ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রম) বা স্মৃতিভ্রংশ রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ২০২৩ সালের ১ কোটি ১৪ লাখ থেকে বেড়ে ২০৫০ সাল নাগাদ ২ কোটি ৪৭ লাখে পৌঁছাতে পারে যা দ্বিগুণেরও বেশি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) চিকিৎসা সাময়িকী 'জামা নিউরোলজি'-তে প্রকাশিত এই গবেষণায় বিশ্বের ছয়টি মহাদেশের ১৮টি দেশ ও অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৪১৮ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর চালানো ২২টি আলাদা জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স ও লিঙ্গ নির্বিশেষে বিশ্বব্যাপী প্রতি ১ হাজার জনে প্রতি বছর গড়ে ৯ দশমিক ৭ জন নতুন করে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে বয়সজনিত প্রভাব সমন্বয়ের পর দেখা যায়, পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। পুরুষদের ক্ষেত্রে যেখানে এই হার প্রতি ১ হাজার জনে ৮ দশমিক ৬ জন, সেখানে নারীদের ক্ষেত্রে তা ১০ দশমিক ৬ জন।
আরও পড়ুন
তবে আয়ের দিক থেকে দেশগুলোর মধ্যে এই ব্যবধান আরও বেশি প্রকট। উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে প্রতি ১ হাজার জনে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৮ দশমিক ৩ জন হলেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে তা ১৩ দশমিক ৬ জন।
গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক এবং নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের 'সেন্টার ফর হেলদি ব্রেইন এজিং'-এর গবেষক অ্যাশলি ভেলা বলেন, ‘আমরা প্রথমবারের মতো একই পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি ব্যবহার করে একটি ভৌগোলিকভাবে বৈচিত্র্যময় জনসংখ্যার মধ্যে ডিমেনশিয়ার প্রাদুর্ভাবের তুলনা করতে পেরেছি। যা থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, নারীদের মধ্যে এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এর হার সবচেয়ে বেশি।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বয়োবৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা বাড়ার কারণেই মূলত আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ বছরে ২৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন নতুন আক্রান্তের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৫ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন, যা ২০৫০ সাল নাগাদ ১৫ কোটিতে পৌঁছাতে পারে বলে আগের এক গবেষণায় বলা হয়েছিল।
গবেষণার সহ-লেখক হেনরি ব্রোডাটি সতর্ক করে বলেন, ‘প্রতি বছর ২ কোটি ৪০ লাখের বেশি নতুন রোগী আক্রান্ত হলে তা বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, পরিবার এবং অর্থনীতির ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করবে। তিনি কেবল আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা না করে, প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকিগুলো হ্রাস করা, প্রাথমিক পর্যায়ে ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।’
তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
তেলাপোকা পার্টির পর এবার আত্মপ্রকাশ ‘মাছি পার্টি’র
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
মক্ষী জনতা পার্টি
-->তেলাপোকা পার্টি বা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) পর এ বার আলোচনায় ‘মক্ষী জনতা পার্টি’ (এমজেপি)। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের ‘মাছি মারতে হাতুড়ি’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইনস্টাগ্রামে আত্মপ্রকাশ করেছে এই ব্যঙ্গাত্মক পেজ।
মাত্র ৭২ ঘণ্টায় ৪০ লাখের বেশি ভিউ এবং ৩ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি ফলোয়ার পাওয়ার দাবি করেছে তারা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এমজেপি জানায়, সিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। দুই পক্ষের সম্মতি থাকলে যৌথ কর্মসূচি বা সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
আরও পড়ুন
এমজেপি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভানেত্রী নেহা বোরার আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে। পাশাপাশি যন্তর মন্তর থেকে সিজেপির দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছে।
কী এই মক্ষী জনতা পার্টি?
এমজেপি একটি ব্যঙ্গাত্মক ইনস্টাগ্রাম পেজ। ‘মক্ষী’ শব্দের অর্থ মাছি। পেজটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জুনে এটি ইনস্টাগ্রামে যুক্ত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আরিয়ান নামে এক পড়ুয়ার উল্লেখ রয়েছে। সম্প্রতি পেজটি মুখপাত্র নিয়োগের ঘোষণাও দিয়েছে।
গত ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে দিল্লিতে সিজেপির প্রস্তাবিত প্রতিবাদ কর্মসূচির আগে পরিবহণ ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, নিরাপত্তার স্বার্থে গণপরিবহণ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে, কিন্তু পুরো ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া যায় না।
আদালতের মন্তব্য ছিল, ‘মাছি মারতে হাতুড়ি’ ব্যবহার করা উচিত নয়।
আদালতের এই মন্তব্যকেই ব্যঙ্গাত্মক ভাবে তুলে ধরে এমজেপি। তাদের বক্তব্য, মাছি মারতে যখন হাতুড়ি ব্যবহার করা যায় না, তখন সেই মাছিরও নিজের কথা বলার অধিকার রয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার শুনানিতে বেকার তরুণদের সঙ্গে আরশোলার তুলনা করার অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয় সিজেপি। প্রথমে ব্যঙ্গাত্মক পেজ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও পরে তা আন্দোলনের রূপ নেয়।
জুলাইয়ে নিট-সংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবাদের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।
গত ১০ অক্টোবর ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন বিক্ষোভের ডাক দেয়। তবে দিল্লি পুলিশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করা এবং জনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। যন্তর মন্তর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
সেই কর্মসূচির সময় জাতীয় পতাকা হাতে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে সিজেপির দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর প্রতিবাদে এমজেপি জানিয়েছে, গণতন্ত্রের জন্য সংলাপ জরুরি। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণের পক্ষে সওয়াল করেছে তারা।
নেহা বোরার আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে এমজেপি আরও বলেছে, গণতন্ত্রে প্রশ্ন তোলা এবং কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি চাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভাবে এবং আইনের মধ্যে থেকে প্রতিবাদ করার আহ্বানও জানিয়েছে পেজটি।
আরও পড়ুন
থাইল্যান্ডের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে ৬০ ডলারের যে ঘড়িটি
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০১ পিএম
আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
ক্যাসিও '১২০০-ডব্লিউএইচ' মডেলের ডিজিটাল ঘড়ি। ছবি: সংগৃহীত
-->বিশ্বের অন্যান্য দেশের রাজনীতিতে বিলাসবহুল ঘড়ি আভিজাত্য ও ক্ষমতার প্রতীক হলেও থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে এখন নতুন ট্রেন্ড বা ট্রেন্ডিং স্ট্যাটাস সিম্বল হয়ে উঠেছে ৬০ ডলারেরও কম মূল্যের একটি ঘড়ি। আর এই বিশেষ ঘড়িটি আসছে স্বয়ং দেশটির প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে।
প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের নাম খোদাই করা ক্যাসিও এই '১২০০-ডব্লিউএইচ' মডেলের ডিজিটাল ঘড়িটি এখন থাই মন্ত্রিসভার সদস্য, জ্যেষ্ঠ আমলা এবং রাজনৈতিক মিত্রদের কব্জিতে শোভা পাচ্ছে।
বিশ্ব মানচিত্রের ডিসপ্লে ও রেট্রো-ফিউচারিস্টিক ডিজাইনের কারণে ঘড়িটির ডাকনাম দেওয়া হয়েছে 'ক্যাসিও রয়্যাল'। বর্তমানে থাই রাজনীতিতে ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকার প্রতীক হয়ে উঠেছে এটি, যা পরিধানকারীদের জন্য তৈরি করেছে 'কাসিও কানেকশন' নামের এক নতুন তকমা।
আরও পড়ুন
এই সাধারণ ঘড়ি লেনদেনের বিষয়টি অনুতিনের সেই ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর আলো ফেলে, যার ওপর ভর করে তিনি কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম একটি স্থিতিশীল সরকার গড়ে তুলেছেন। একজন দক্ষ রাজনৈতিক চালক হিসেবে অনুতিন নিজের 'ভূমজাইথাই দল' থেকে শুরু করে প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সর্বত্রই নিজের শক্তিশালী মিত্র বলয় তৈরি করেছেন।
পরিবহণ উপমন্ত্রী সিরিপং অং কাসাকুলকিয়াত এক সাক্ষাৎকারে জানান, সম্প্রতি এক ক্যাবিনেট বৈঠকের পর অনুতিনের কাছ থেকে তিনি ঘড়িটি উপহার পেয়েছেন এবং এর পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই এটি পরছেন। রসিকতা করে তিনি বলেন, এটি পরার পর থেকে হাজার হাজার ডলার মূল্যের বিলাসবহুল ঘড়ি পরা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন তিনি।
সিরিপং জানান, অনুতিন ব্যাংককের বিভিন্ন বাজার ও ছোট দোকান থেকে সাধারণ এই কাসিও ঘড়িগুলো কেনেন এবং নিজের নাম খোদাই করে উপহার দেন। এমনকি এই ঘড়ি উপহার পাওয়া ব্যক্তিরা এখন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন-কার ঘড়ির স্ট্র্যাপ ধাতব আর কারটি রেসিনের।
এদিকে সরকারের মুখপাত্র এক্কাপোপ পিয়ানপিসেস একে বিশেষ রাজনৈতিক বলয় তৈরির হাতিয়ার হিসেবে অস্বীকার করে জানান, অনুতিন কেবল এই ঘড়িটির ব্যবহারিক সুবিধাজনক দিক পছন্দ করেন এবং অন্যদের সঙ্গে এটি শেয়ার করতে চান। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক বার্তা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
আনুগত্যের রাজনীতি
থাই রাজনীতিতে মহার্ঘ্য ঘড়ির বিতর্ক বেশ পুরোনো। ২০১৭ সালে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী প্রবিত ওংসুওয়ানের কব্জিতে একের পর এক কোটি টাকার লাক্সারি ঘড়ি দেখা গেলে তা নিয়ে দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়। পরে তিনি দাবি করেন, এক ধনী বন্ধুর কাছ থেকে তিনি ঘড়িগুলো ধার নিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী অনুতিন নিজেও প্রায় ১৮ লাখ ডলার মূল্যের ২২টি বিলাসবহুল ঘড়ির মালিক। কিন্তু তার উপহার দেওয়া স্বল্পমূল্যের এই কাসিও ঘড়িগুলোর রাজনৈতিক প্রভাব অন্যরকম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সিঙ্গাপুরের আইএসইএএস-ইউসুফ ইসহাক ইনস্টিটিউটের গবেষক নাপন জাতুশ্রী পিতাক বলেন, 'স্বল্পমূল্যের হলেও দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ব্যক্তিগত উপহার হিসেবে এই ঘড়ি পাওয়া এক ধরনের সামাজিক বাধ্যবাধকতা তৈরি করে। এটি উপহারগ্রহীতার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুগত থাকার ও দিকনির্দেশনা মেনে চলার মনোভাব তৈরি করতে পারে।'
সম্প্রতি প্রভাবশালী রাজনৈতিক চালক থামানাত প্রমপোও-কে অনুতিনের নাম খোদাই করা এই কাসিও ঘড়ি পরতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি অনুতিনের ক্ষমতাসীন জোটে যোগ দিতে যাচ্ছেন। এমনকি তার দলের সাধারণ সম্পাদক ইঙ্গিত দিয়েছেন, ঘড়িটি অনুতিন নিজের হাত থেকেই খুলে থামানাতকে পরিয়ে দিয়েছেন।
বিশ্লেষক নাপনের মতে, 'এই ঘড়ি উপহার দেওয়ার মাধ্যমে অনুতিন সুকৌশলে নতুন বন্ধু, অনুসারী ও রাজনৈতিক বলয় তৈরি করছেন।'
আজাহর/
আরও পড়ুন
কুকুর সঙ্গে ঘুমালে মানুষের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে না: গবেষণা
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭ পিএম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->রাতে কুকুরের সঙ্গে ঘুমালে মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে প্রচলিত এই ধারণাটি সম্ভবত ভুল। সম্প্রতি প্রকাশিত এক কানাডীয় গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, রাতে মানুষের নাড়াচাড়ার কারণেই মূলত কুকুরের ঘুম ভেঙে যায় বা তারা নড়েচড়ে বসে, উল্টোটা নয়।
বিজ্ঞান সাময়িকী 'প্লস ওয়ান'-এ প্রকাশিত হু ইজ ডিসরাপ্টিং হুম? এক্সামিনিন দ্য নাইটটাইম অ্যাক্টিভিটি প্যাটার্নস অফ হিউম্যানস অ্যান্ড দেয়ার ডগস শীর্ষক এক গবেষণাপত্রে এই তথ্য উঠে এসেছে। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো মিসিসাগার নৃবিজ্ঞান বিভাগের গবেষক মিং ফেই লি, লাভানিয়া নাগেনদ্রান, ক্রিস্টোফার কিরু, লরেন শ্রয়েডার এবং ডেভিড আর সামসনের যৌথ পরিচালনায় এই গবেষণাটি সম্পাদিত হয়।
কানাডার অন্টারিওতে বসবাসকারী ২৫ জন মানুষ এবং তাদের ৩৮টি পোষা কুকুরের ওপর টানা চার সপ্তাহ ধরে মনিটরিং চালিয়ে এই গবেষণা পরিচালিত হয়। অংশগ্রহণকারী মানুষদের কব্জিতে এবং কুকুরের কলার বা বেল্টে বিশেষ সেন্সর ব্যবহার করে রাতের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
আরও পড়ুন
মানুষের নড়াচড়াই কুকুরের ঘুমের পরিবর্তনের মূল কারণ
গবেষণায় দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ ক্ষেত্রে মানুষ ও কুকুরের রাতের গতিবিধির মধ্যে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। তবে এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে (৪৫ শতাংশ) দেখা গেছে মানুষ ঘুমে অঙ্গভঙ্গি বদল বা নড়াচড়া করার ৫ মিনিটের মধ্যে তাদের কুকুরটি নড়েচড়ে উঠেছে। অন্যদিকে, মাত্র ১৮ শতাংশ ক্ষেত্রে কুকুরের নড়াচড়ার পর মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বাকি ৩৬ শতাংশ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ প্রায় একই মিনিটে নড়াচড়া করেছে।
এর থেকে ইঙ্গিত মেলে যে, রাতে ঘুমানোর সময় মানুষের শারীরিক নড়াচড়ার প্রভাব কুকুরের ওপর পড়ে। অর্থাৎ, একজন মানুষ রাতে বিছানায় পাশ ফিরলে তার সঙ্গে সঙ্গে কুকুরটিও তার অবস্থান পরিবর্তন করে।
মানসিক প্রশান্তি ও নিরাপত্তা প্রদান
গবেষণায় আরও বলা হয়, একই বিছানায় কুকুরের সঙ্গে ঘুমানো মানুষের মোট ঘুমের সময় বা ঘুমের গুণমানের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না। কুকুরটি বিছানায় নাকি ঘরের অন্য কোথাও ঘুমাচ্ছে তার ওপর মানুষের ঘুমের গুণগত মান নির্ভর করে না। তবে একাধিক কুকুর থাকলে তাদের ক্ষেত্রে কিছুটা ঘুমের ব্যঘাত ঘটার কথা জানিয়েছেন কিছু অংশগ্রহণকারী।
তা সত্ত্বেও, শারীরিক বিশ্রামের বাইরেও কুকুরের সঙ্গে ঘুমানোর একটি ইতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব রয়েছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া ৭২ শতাংশ মানুষই জানিয়েছেন, রাতে কুকুর নড়াচড়া করলেও তার সঙ্গে ঘুমানো তাদের এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি ও নিরাপত্তার অনুভূতি দেয়।
আরও গবেষণার প্রয়োজন
গবেষকরা জানিয়েছেন, এই গবেষণার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এটি তুলনামূলক কম সংখ্যক মানুষের ওপর এবং কেবল নির্দিষ্ট দুটি জাতের (হাস্কি ও মালামুট) কুকুরের ওপর করা হয়েছে। এছাড়া কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় এই ডেটা সংগ্রহ করা হয়েছিল, যখন মানুষের দৈনিক রুটিন কিছুটা ভিন্ন ছিল।
মানুষ ও কুকুরের এই যৌথ ঘুমের সম্পর্ক আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে ভবিষ্যতে নাইট-ভিশন ক্যামেরা ও অডিও রেকর্ডিং ব্যবহার করে বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
তামান্না রুপা/
