গোল করে সেলিব্রেশনছবি: Instagram/realmadrid
Published on
:
2 min read
কথায় আছে, ‘যখন UEFA Champions League-এ প্রসঙ্গ আসে তখন রিয়াল মাদ্রিদ শুধু জেতে, ওদের খেলতে হয় না।’ সেটা যে সত্যি তা ফের প্রমাণ হলো। ৮২ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকা রিয়াল জিতল ৪-৩ গোলে। সৌজন্যে শেষের সাত মিনিটের ঝড়।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগকে বরাবরই রিয়াল মাদ্রিদের সম্পত্তি বলা হয়। ১৫ বার UCL জয়ই তার প্রমাণ। আর এটা সম্ভব হয়েছে ম্যাচের শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত তাদের লড়াই করার মানসিকতার জন্য। গত ম্যাচে রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোয় ৮২ মিনিট পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা রোমাকে উড়িয়ে দিল রিয়াল।
রোমাকে হারালেন তাদের প্রিয় মোরিনহো
ম্যাচটি মোরিনহোর কাছে ছিল এক বিশেষ পরীক্ষা। ২০২১-২২ মরশুমে এই অলিম্পিকোতেই রোমাকে ইউরোপীয় কনফারেন্স লিগ ট্রফি এনে দিয়েছিলেন তিনি। ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সফল এই পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ডকে স্বাগত জানাতে এদিন অলিম্পিকোর গ্যালারিতে ব্যানার টানিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়েছিলেন রোমান সমর্থকরা। কিন্তু রাত শেষে সেই মানুষটির ক্ষুরধার ট্যাকটিক্সই তাঁদের বুক ভাঙল।
ম্যাচের শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল রোমাই। ২০তম মিনিটে মাতিয়াস সুলের ঠিকানা লেখা পাস থেকে ২০ গজ দূর থেকে চোখধাঁধানো শটে রোমাকে ১-০ এগিয়ে দেন মার্তেন দে রুন। তবে রিয়ালের সমতা ফেরাতে বেশি সময় লাগেনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের মাইলফলক ছোঁয়া শততম ম্যাচ খেলতে নামা কিলিয়ান এমবাপের শট বিপক্ষ ডিফেন্ডার জিয়ানলুকা মানচিনির পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে রোমার জালে জড়ায় (১-১)। এটি টুর্নামেন্টে ফরাসি তারকার কেরিয়ারের ৭২তম গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে রোমার দাপট
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের রাশ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় রোমা। ৫১তম মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের একটি আলগা ফ্লিক থেকে বল কেড়ে নেন ডাচ স্ট্রাইকার দোনিয়েল মালেন। তাঁর জোরালো শট রিয়াল অধিনায়ক ফেদেরিকো ভালভের্দের গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায় (২-১)। এর মাত্র ছয় মিনিট পর (৫৭ মিনিট) ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল করে স্কোরলাইন ৩-১ করেন মালেন। সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তুললেও VAR-এ তা গোল হয়। ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে রিয়াল যখন খাদের কিনারে, তখন রোমা কোচ জিয়ান পিয়েরো গাসপেরিনি রক্ষণ আঁটোসাঁটো করতে একের পর এক ডিফেন্সিভ বদল আনতে শুরু করেন।
মোরিনহোর তাস আর্দা গুলের
কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদকে আক্রমণ থামিয়ে রক্ষণে জায়গা ছেড়ে দেওয়া যে কতটা আত্মঘাতী, তা টের পেতে বেশি সময় লাগেনি রোমার। মোরিনহো তুরুপের তাস হিসেবে মাঠে নামান আর্দা গুলের এবং তরুণ ফরোয়ার্ডদের। আর তাতেই খুলে যায় গোলের দরজা। ৮৩তম মিনিটে গুলেরের তৈরি আক্রমণ থেকে এন্দ্রিকের হেড রোমা কিপার গোলিনি ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন বদলি হিসেবে নামা কার্লোস এস্পি।
এই এক গোলেই যেন তেতে ওঠে রিয়াল। ৮৫তম মিনিটে আর্দা গুলেরের মাপা কর্নার কিকে বুলেট গতির হেডে ৩-৩ সমতা ফেরান এন্দ্রিক। কিন্তু ড্র নয়, রিয়ালের তখন ৩ পয়েন্টের দিকে তাকিয়ে। আর সেটাই হলো, ৯০তম মিনিটে গুলেরের আরেকটি নিখুঁত সেট-পিস রোমার বক্সে পড়তেই কাছ থেকে চকিত ভলিতে বল জালে জড়িয়ে দেন জার্মান ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার (৪-৩)। সাত মিনিটের ম্যাজিকে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের রূপকথা লিখে মাঠ ছাড়ে মোরিনহোর শিষ্যরা। টানা দুই জয়ে টেবিলের ৮ নম্বরে রিয়াল, অন্যদিকে হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ হেরে একরাশ হতাশা নিয়ে ২৫ নম্বরে ধুঁকছে রোমা।
