Published on
:
2 min read
বিমানের ভিতর থেকেই ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঠাকুমার মৃত্যু সংবাদ এসে পৌঁছয়। অভিজিৎ এবং তাঁর পরিবারের দাবি ছিল, তার পরেই সহযোগিতা করেনি পুলিশ। শুধু তাই নয়, অভিজিৎকে ফোন ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। রবিবার পাল্টা ভিডিয়ো প্রকাশ করে অভিজিৎ ও তাঁর পরিবারের দাবি উড়িয়ে দিল দিল্লি পুলিশ।
দিল্লি পুলিশের জনসংযোগ আধিকারিক তথা ডেপুটি কমিশনার নেহা যাদবের দাবি, অভিজিৎকে পুলিশই তাঁর ঠাকুমার মৃত্যু সংবাদ দেয়। একই সঙ্গে তিনি যাতে শেষকৃত্যে যোগ দিতে পারেন, তার ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিজিৎই যেতে চাননি বলে অভিযোগ। দিল্লি পুলিশের প্রকাশ করা ভিডিয়োয় এক আধিকারিককে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘আপনি কোথাও যেতে চাইলে বলুন, আমরা যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দেব। বাস, বিমান বা অন্য ভাবে পৌঁছনোর একটা ব্যবস্থা করা যাবে।’
পুলিশের দাবি, আধিকারিক তাঁকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নিজের সরকারি ফোন নম্বর ব্যবহারের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। কিন্তু অভিজিৎ বলেন, ‘না, সেটা সম্ভব নয়। আমি এখন বাবার সঙ্গে কথা বলতে পারব না।’ এর উত্তরে ওই আধিকারিককে বলতে শোনা যায়, ‘ঠিক আছে। দেখা যাক, কী করা যায়।’ রবিবার পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে মহারাষ্ট্রে নিজের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন দীপক। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি এখন বাড়ি যাচ্ছি। পরিবারের পাশে থাকতে চাই। আমার ঠাকুমা মারা গিয়েছেন।’
শনিবার দুপুরে মৃত্যু হয় দীপকের ঠাকুমা সবিত্রীবাই শঙ্কররাও দীপকের। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। রবিবার সকালে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় তাঁর। দীপকের কাকা বিলাস দীপকের অভিযোগ, শেষকৃত্যের আগে অভিজিৎকে মুক্তি দেওয়ার জন্য বার বার পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু কোনও সাড়া মেলেনি। দিল্লি পুলিশের দাবি, ঠাকুমার মৃত্যু ও শেষকৃত্যের সময় সম্পর্কে দীপককে দ্রুত জানানো হয়েছিল। মানবিক কারণে তাঁকে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।
দিল্লি পুলিশের বক্তব্য খারিজ করে দীপকের অভিযোগ, বার বার অনুরোধ করার পরেও তাঁকে নিজের ফোন ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। এমনকী, আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার অনুমতিও মেলেনি। তাঁর দাবি, ঠাকুমার সঙ্গে থাকা খুড়তুতো ভাইয়ের নম্বর খুঁজে বের করার জন্য কয়েক মিনিট ফোন ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই অনুমতিও মেলেনি। অভিজিতের কথায়, ‘দিল্লি পুলিশ আমাকে ফোন ব্যবহার করতে দিল না কেন? আমি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার অনুমতিও চেয়েছিলাম। সেটাও প্রত্যাখ্যান করা হয়।’
শনিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশন জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার পথে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট থেকেই CJP নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরে তাঁদের প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনে নেওয়া হয়। রবিবার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করার পরে মুক্তি পান তাঁরা। তবে এক বছরের জন্য ‘শান্তিভঙ্গ’ না করার শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
