দেশে ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৭ হাজার ৯৬৩ শিশু। এর মধ্যে ৩১ শতাংশের বেশি শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছে। আর রাস্তা পারাপারসহ চলার পথে প্রাণ গেছে ২ হাজার ৮১২ জনের। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে থ্রি-হুইলারের ধাক্কায়।
আজ বুধবার এক প্রতিবেদনে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এ তথ্য জানিয়েছে। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নিহত শিশুদের মধ্যে ২ হাজার ১৯৩ জন বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী, ২ হাজার ৮১২ জন পথচারী এবং ২ হাজার ৯৫৮ জন মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী ছিল।
পথচারী হিসেবে নিহত শিশুদের মধ্যে ১ হাজার ২৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, নছিমন, ভটভটি ইত্যাদি থ্রি-হুইলারের ধাক্কায়, শতকরা হিসাবে যা ৪৫.১৯। এ ছাড়া বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপের মতো ভারী যানবাহনের চাপায় ও ধাক্কায় ১ হাজার ১২৬ শিশু এবং প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের ধাক্কায় ৩১৭ শিশুর প্রাণ গেছে।
সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৭১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে গ্রামীণ সড়কে। এ ছাড়া আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ৮২, মহাসড়কে ১ হাজার ৯৭৪ এবং শহরের সড়কে ১ হাজার ১৯৪ শিশু নিহত হয়েছে।
সময় বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি শিশু নিহত হয়েছে বিকেলে—২ হাজার ৬৩৪ জন। বয়সভিত্তিক হিসাবে নিহত শিশুদের ৩৬ শতাংশের বেশি ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী। আর ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৩ হাজার ৫৪৭ শিশু নিহত হয়েছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার সময় ২ হাজার ৫১৩ শিশু এবং বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলার সময় ৯৬২ শিশু নিহত হয়েছে।
সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থা শিশুবান্ধব না হওয়া, চালকদের অদক্ষতা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের গাড়ি চালানো এবং সড়ক ব্যবহারে সচেতনতার অভাবকে শিশুমৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
শিশুদের জন্য নিরাপদ সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রামীণ সড়কগুলো বসতবাড়িঘেঁষা এবং এই সড়কের যানবাহনগুলো নিয়মনীতি মেনে চলে না। সড়ক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও থাকে না। আবার শিশুরাও সড়ক ব্যবহারের নিয়ম জানে না। বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে যেমন কোনো উদ্বেগ নেই, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।’
