শতাধিক অভিনয়শিল্পীর অংশগ্রহণে নির্মিত নতুন বাংলা ধারাবাহিক নাটক ‘বেগমপাড়া’ প্রচারিত হচ্ছে একুশে টেলিভিশনে। লাবণ্য মিডিয়া হাউজের তত্ত্বাবধানে নির্মিত নাটকটির রচনা ও পরিচালনায় রয়েছেন মো. হেদায়েত উল্লাহ তুর্কী। পাঁচ প্রজন্মের মানুষের গল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ধারাবাহিকে উঠে আসবে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা অসংগতি, রাজনৈতিক প্রভাব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র।
আগামী ১৯ অক্টোবর থেকে প্রতি সপ্তাহের সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার রাত ১০টায় একুশে টেলিভিশনে নাটকটি প্রচারিত হবে। টেলিভিশনের পাশাপাশি লাবণ্য মিডিয়া হাউজের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজেও এটি দেখার সুযোগ পাবেন দর্শকেরা।
সমাজ, রাজনীতি ও আমলাতন্ত্রের নানা অসংগতি নিয়ে নির্মিত ধারাবাহিকটি দেখা যাবে সোম, মঙ্গল ও বুধবার রাত ১০টায়
‘বেগমপাড়া’র গল্প আবর্তিত হয়েছে একটি কাল্পনিক পাড়াকে ঘিরে। পরিচিত অভিনয়শিল্পীদের পাশাপাশি নবাগতদের অংশগ্রহণে সাজানো হয়েছে এর চরিত্রগুলো। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, পারিবারিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে এতে। বিশেষ করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, সরকারি আমলা ও বড় ব্যবসায়ীদের অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ও গল্পে স্থান পেয়েছে।
নাটকটি প্রসঙ্গে পরিচালক হেদায়েত উল্লাহ তুর্কী বলেন, পাঁচ প্রজন্মের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘বেগমপাড়া’। এতে সাত বছর বয়সী শিশু থেকে শুরু করে ৭০ বছর বয়সী অভিনয়শিল্পীরাও অংশ নিয়েছেন। সমাজের বাস্তব কিছু চিত্র গল্পের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি। তাঁর আশা, নাটকটি দর্শকদের ভালো লাগবে।
লাবণ্য মিডিয়া হাউজের কর্ণধার সিনথিয়া সুলতানা বলেন, বর্তমান সময়ের প্রচলিত নাটকের তুলনায় ‘বেগমপাড়া’র গল্প ভিন্নধর্মী। নতুন ধরনের এই গল্প দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে বলে তিনি আশাবাদী।
নাটকটির সহকারী পরিচালক শাহীন আহমেদ রাজ বলেন, দর্শকেরা এই ধারাবাহিকে ভিন্নধর্মী গল্প দেখতে পাবেন। ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা কীভাবে কালো টাকা ও বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলেন, সেই বিষয়গুলোও নাটকের গল্পে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
ধারাবাহিকটির অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় রয়েছেন বাবুল আহমেদ, আবদুল্লাহ রানা, সফিক খান দিলু, আশরাফুল আলম সোহাগ, তুহিন চৌধুরী, আমিন আজাদ, তারেক স্বপন, টুটুল চৌধুরী, কবির টুটুল, এস এম কামরুল বাহার, রাফা নাঈম, আলমগীর কবির, সাব্বির আহমেদ, শিশির সর্দার, সূর্য খান, শিমুল চৌধুরী, লিজা খানম, আসমা শিউলী, নাবিলা চৌধুরী, আঁখি চৌধুরী, শেখ চাঁদনী, সাদিকা মালিহা সখ, সুমাইয়া নদী, ডালিয়া জুই ও সানজিদা কানিজ সান্জুসহ আরও অনেকে।
এ ছাড়া ধারাবাহিকটিতে যুক্ত হচ্ছেন জয়িতা প্রিয়ন্তী, শেখ স্বপ্না, সেঁজুতি খন্দকার, তাবাসসুম মিথিলা, আকাশ ইসলাম, মাজহারুল ইসলাম, আহমেদ সাব্বির রোমিও, শাহীন আলম জয়, ইসমাইল হোসেন পলাশ, সোনিয়া পারভীন, কথা চৌধুরী ও মুনিয়া মুনসহ কয়েকজন নতুন অভিনয়শিল্পী।
নাটকটির প্রথম লটের শুটিং হয়েছে ঢাকার মোহাম্মদপুরের নীলপদ্ম শুটিং হাউজে। দ্বিতীয় লটের শুটিং হয়েছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। পরিচালকের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন সৈয়দ নুরুজ্জামান, রাহুল রাজু, শাহীন আহমেদ রাজ, বায়েজিদ আহমেদ ও আশিক মাহমুদ। প্রকল্পটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন সিনথিয়া সুলতানা এবং ব্যবস্থাপনায় আছেন মুজাদ্দিদ হোসেন অনুরাগ।
ধারাবাহিকটির গান লিখেছেন হেদায়েত উল্লাহ তুর্কী। গানটিতে সুর করার পাশাপাশি কণ্ঠ দিয়েছেন বেলাল আহমেদ চঞ্চল ও লিপি শর্মা। ক্যামেরায় কাজ করেছেন জেড আই জাহিদ, সবুজ খান, রেজাউল ইসলাম ও রাবুল রাজিব। সম্পাদনা ও রঙের কাজে যুক্ত রয়েছেন কিশোর আল মামুন।
‘বেগমপাড়া’ নির্মাণ ও প্রচার কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে টেকশেল, এস এম মাগুরা রিয়েল স্টেট লিমিটেড এবং লাবণ্য ফ্যাশন। দর্শকদের জন্য ধারাবাহিকটির সঙ্গে থাকছে কুইজ প্রতিযোগিতা ও উপহার জেতার সুযোগ।
বিআলো/শিলি