বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে এক ধাপ উন্নতি হয়ে এবার ৮৪তম অবস্থানে নেমেছে বাংলাদেশ। সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশের এবারের স্কোর ১৯ দশমিক ২। এ স্কোর নিয়ে ১২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অবস্থান চুরাশিতম।
২০২৫ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২০। এ স্কোর নিয়ে ১২৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের ঠাঁই হয়েছিল ৮৫তম স্থানে। এর আগে ২০২৪ সালে ১৯ দশমিক ৪ স্কোর নিয়ে ১২৭টি দেশের মধ্যে চুরাশিতম অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ।
গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) বৃহস্পতিবার তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ক্ষুধা সূচকে যে দেশের স্কোর যত কম, তাদের ক্ষুধার মাত্রা তত কম অর্থাৎ ক্ষুধামুক্ত বোঝায়। এবারের স্কোর অনুযায়ী বাংলাদেশের ক্ষুধার শ্রেণি ‘মধ্যম’ মাত্রার।
অপরদিকে ২৪ দশমিক ১ স্কোর নিয়ে পার্শ্ববর্তী ভারতের অবস্থান ১০০তম। ক্ষুধা শ্রেণিতে দেশটির এই স্কোর ‘গুরুতর বা মারাত্মক’ পর্যায়ের।
পাকিস্তানের অবস্থান ১০৬তম। দেশটির ২৫ দশমিক ৫ স্কোরও ক্ষুধা শ্রেণির ‘গুরুতর বা মারাত্মক’ পর্যায় নির্দেশ করছে। অপরদিকে নেপাল ও মিয়ানমার ৭২তম অবস্থানে রয়েছে ১৪ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে, যা ‘মধ্যম’ মাত্রার।
১২২ দেশের মধ্যে ৫ এরও কম স্কোর নিয়ে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ২৪টি দেশ। এর মধ্যে চীনও রয়েছে। তবে বেশিরভাগ দেশই ইউরোপের।
জিএইচআই সূচকে সবার পেছনে রয়েছে সোমালিয়া। দেশটির স্কোর ৪৭, যা ‘উদ্বেগজনক’ ক্ষুধা শ্রেণি নির্দেশ করছে। তবে ২০১৮ সালের স্কোর অনুযায়ী দেশটির ক্ষুধা শ্রেণি ছিল ‘চরম উদ্বেগজনক’ পর্যায়ের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সালের পর থেকে ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নতি হয়েছে। তবে ২০১৮ সালের পর থেকে সেই গতি ভারতের মতই ধীর। ২০০০ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩৪ দশমিক ৬, যা ‘গুরুতর’ পর্যায়ের। ২০০৬ সালে স্কোর ছিল ৩০। ২০১২ সালে ছিল ২৭ দশমিক ৩ এবং ২০১৮ সালে স্কোর ছিল ২০। আর ২৬ সালের সূচকে এই স্কোর দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ২।
অপুষ্টির হার, ৫ বছরের কম বয়সিদের মধ্যে উচ্চতার তুলনায় কম ওজনের শিশুর হার, ৫ বছরের কম বয়সিদের মধ্যে কম উচ্চতার শিশুর হার, ৫ বছরের কম বয়সি শিশুমৃত্যুর হার- এই চারটি মাপকাঠিতে প্রতিটি দেশের পরিস্থিতি বিচার করে তৈরি হয় গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স-জিএইচআই বা বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট জনসংখ্যার ৮ দশমিক শতাংশ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। আর দেশে পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের উচ্চতার তুলনায় কম ওজনের হার ১২ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ২০০০ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ।
স্কোর অনুযায়ী এটি ‘চরম উদ্বেগজনক’ পর্যায়ের। ২০০০ সালে পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের উচ্চতার তুলনায় কম ওজনের হার ছিল ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
আর ২০২৪ সালের হিসাবে ৫ বছরের বয়সিদের মধ্যে কম উচ্চতার শিশুর হার ২৪ শতাংশ। ২০১৮ সালে এটি ছিল ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী ৫ বছরের কম বয়সি শিশুমৃত্যুর হার ৩ শতাংশ। ২০১৮ সালে এটি ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে জাতীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও আঞ্চলিকভাবে বৈষম্য রয়ে গেছে। শরণার্থীর চাপ, ঘন ঘন বন্যা ও মানবিক সহায়তার অভাবের কারণে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের এফএও এবং ডব্লিউএফপির ‘ক্ষুধা ঝুঁকিপূর্ণ’ এলাকার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
