রোববার (১৮ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৩৭ রানে পরাজিত করে বিজয়ী সূচনা করেছে পাকিস্তান। দলের পক্ষে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে জয়ের পথ তৈরি করেন সালমান আঘা। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে স্বাগতিকরা শেষদিকে কিছুটা পথ হারালেও সালমান আঘার শতকের সুবাদে তিন শ রানের গণ্ডি পার করে ৩০৫ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি গড়ে। জবাবে লক্ষ্যের পিছু ছুটতে গিয়ে লঙ্কানরা লড়াইয়ে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে ভেঙে পড়ে এবং নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে দূরেই থেমে যায়।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তানের শুরুটা খুব একটা সুখকর ছিল না। ইনিংসের শুরুতে ফখর জামান একটি ফ্রি-হিট কাজে লাগিয়ে ছক্কা হাঁকানোর পাশাপাশি কয়েকটি বাউন্ডারি আদায় করলেও প্রথম ছয় ওভারের মধ্যেই দুই ওপেনারকে সাজঘরে ফেরান দিলশান মাদুশঙ্কা। এরপর বাবর আজম ও সাদ বেগ ইতিবাচক ব্যাটিং শুরু করেন। বাবর হাফ সেঞ্চুরি থেকে মাত্র পাঁচ রান দূরে থাকতে ঈশান মালিঙ্গার বলে পুল শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিলে ভেঙে যায় এই জুটি। এরপর মালিঙ্গার পরের ওভারে শর্ট বলে টপ এজ হয়ে ফিরে যান থিতু হওয়া ব্যাটার সাদ বেগও।
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে সালমান আঘা ও হাসান নওয়াজ দারুণ এক জুটি গড়ে দলকে খেলায় ফেরান। আঘা তার হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর নওয়াজ ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে পাকিস্তানকে চালকের আসনে বসান। তবে নওয়াজ আউট হওয়ার পর আঘা রান তোলার গতি বাড়ালেও আরাফাত মিনহাজের বিদাল পাকিস্তানের ইনিংসে ধ্ব্স নামায়। শেষ ছয় ওভারে মাত্র ৩৭ রান তুলতেই শেষ পাঁচ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা, যার মধ্যে লং অনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন সেঞ্চুরিয়ান সালমান আঘা যিনি ১০৭ রান করেন। তা সত্ত্বেও ৩০৫ রানের পুঁজি নিয়ে জয় তুলে নিতে আত্মবিশ্বাসী ছিল পাকিস্তান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে শ্রীলঙ্কা। ইনিংসের শুরুতেই আভিষ্কা ফার্নান্দো টপ এজ হয়ে সাজঘরে ফেরেন এবং কুশল মেন্ডিস ৩১ বলে মাত্র ১৩ রান করে ধুঁকতে থাকেন। ফাহিম আশরাফের শিকারে কুশল আউট হলে ক্রিজে আসেন পাভান রত্নায়েকের। শাহীন শাহ আফ্রিদির জোড়া আঘাতে লঙ্কানরা চরম চাপের মুখে পড়ে। কুড়ি ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়ায় চার উইকেটে ৯১ রান। সেখান থেকে দলের ইনিংস পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেন পাভান রত্নায়েক ও জানিথ লিয়ানাগে। তারা নিয়মিত বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন এবং দ্বিতীয় পানীয় পানের বিরতির পর রত্নায়েক তার হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে আফ্রিদির বলে পরপর দুটি ছক্কা হাঁকান।
খেলার মোড় ঘোরার উপক্রম হলেও রত্নায়েক কভারের দিকে সহজ ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে পাকিস্তান। এরপর দাসুন শানাকা ঝোড়ো ব্যাটিং শুরু করলেও হারিস রউফ অপরপ্রান্তে হাফ সেঞ্চুরিয়ান জানিথ লিয়ানাগেকে আউট করে বড় ধাক্কা দেন। অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদি নিজের কোটার শেষ ওভারগুলো দ্রুত শেষ করার কৌশল নিয়ে শানাকাকে আউট করে ম্যাচের ভাগ্য পাকিস্তানের পক্ষে নিশ্চিত করেন। এরপর শ্রীলঙ্কার লেজিসদের দ্রুত গুটিয়ে দিয়ে নাসিম শাহ ও হারিস রউফ দলের জয় নিশ্চিত করেন। শ্রীলঙ্কা ৪৮.১ ওভারে ২৬৮ রানে অলআউট হয়, যেখানে পাকিস্তানের পক্ষে আফ্রিদি তিনটি এবং নাসিম শাহ দুটি উইকেট শিকার করেন।
