দশেরার দিনে দেশের অধিকাংশ জায়গায় রাবণের কুশপুতুল দহন করে অশুভ শক্তির বিনাশ উদ্যাপন করা হয়। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের মন্দসৌরে ছবিটা কিছুটা আলাদা। এখানে রাবণকে শুধুমাত্র রামায়ণের খলনায়ক হিসেবে দেখা হয় না, বরং স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, তাঁকে এলাকার জামাই হিসেবে সম্মান জানানো হয়। আর সেই কারণেই রাবণের মূর্তির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ঘোমটা টানেন মহিলারা। দশেরার দিনে রাবণের পুজো ঘিরে এই বিশেষ প্রথা স্থানীয় সংস্কৃতির অন্যতম আকর্ষণ।
মধ্যপ্রদেশের মন্দসৌরের খানপুরা এলাকায় রাবণকে ঘিরে প্রচলিত রয়েছে এক বিশেষ লোকবিশ্বাস। স্থানীয়দের ধারণা, রাবণের স্ত্রী মন্দোদরীর বাপের বাড়ি ছিল এই অঞ্চলে। সেই বিশ্বাস থেকেই মন্দোদরীকে এলাকার মেয়ে এবং রাবণকে জামাই হিসেবে গণ্য করা হয়।
নামদেব সমাজের একাংশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই প্রথা মেনে আসছেন। তাঁদের কাছে রাবণ কেবল রামায়ণের একটি চরিত্র নন, তিনি পরিবারের জামাইয়ের মতোই সম্মানের পাত্র। তাই দশেরার দিনে তাঁর মূর্তির সামনে পুজো করা হয়।
রাবণের মূর্তির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় কিছু মহিলা মাথায় ঘোমটা টেনে নেন। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পরিবারের জামাইকে সম্মান জানানোর রীতি থেকেই এই প্রথার প্রচলন। দশেরার দিন নামদেব সমাজের মানুষ রাবণের মূর্তির সামনে সমবেত হয়ে পুজো করেন। মূর্তির পায়ে পবিত্র সুতো বা লচ্ছা বাঁধার প্রথাও রয়েছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই আচার পালন করলে অসুস্থতা ও নানা সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
মূর্তিতে রাবণের একাধিক মানুষের মাথার উপরে দেখা যায় গাধার মাথার অবয়ব। স্থানীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই গাধার মাথা রাবণের বিবেক হারানোর প্রতীক।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, রাবণ ছিলেন অত্যন্ত জ্ঞানী এবং শাস্ত্রজ্ঞ। কিন্তু সীতাহরণের মতো ভুল সিদ্ধান্ত তাঁর পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সেই ভুল সিদ্ধান্তের প্রতীক হিসেবেই মূর্তিতে গাধার মাথা রাখা হয়েছে বলে মনে করা হয়। যেখানে দশেরার মূল আকর্ষণ রাবণ দহন, সেখানে মন্দসৌরে তাঁকে জামাই হিসেবে সম্মান জানানো এবং তাঁর মূর্তির সামনে মহিলাদের ঘোমটা দেওয়ার রীতি উৎসবটিকে দিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা।
