আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন। ৫০ হাজার টাকার একটি 'শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা' (পিস বন্ড)-তে সই করার পরই তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ১২৬ ও ১৭০ ধারায় শান্তিভঙ্গের অভিযোগে শুক্রবার দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দীপকে-কে গ্রেপ্তার করেছিল। এরপর তাঁকে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম) আদালতে হাজির করা হয়।
শুক্রবার কনট প্লেসে 'লেহরা দো তিরঙ্গা' প্রতিবাদ মিছিলের আগে পুলিশ অভিজিৎ দীপকে এবং 'অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন' (আইসা)-এর প্রাক্তন সভাপতি নেহা বোরাকে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে (প্রিভেন্টিভ কাস্টডি) নিয়েছিল। দিল্লি পুলিশ আইনের ৬৫ ধারার অধীনে আটকের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, শনিবার ভোরে নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে অভিজিৎ দীপকে পুলিশি হেফাজতেই ছিলেন। তাঁকে এসইএম আদালতে পেশ করা হয়।
এর আগে ১০ অক্টোবর দিল্লি বিমানবন্দরে একটি বিমানের ভেতর থেকে দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দীপকে-কে আটক করেছিল। সে সময় তিনি এক বছর শান্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি মুচলেকায় সই করেছিলেন। তখন পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে শান্তিভঙ্গের অভিযোগে একটি পৃথক মামলা দায়ের করেছিল।
আটককে 'বেআইনি' বলে অভিহিত করলেন নেহা বোরা
মুক্তির পর নেহা বোরা দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁকে আটককে রাখা আদতে 'বেআইনি' বলে তোপ দাগেন। তিনি 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' (এসআইআর) প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানান। পাশাপাশি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ইমপিচমেন্ট এবং কারাদণ্ডের দাবি তোলেন তিনি।
পিটিআই ভিডিও-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেহা বোরা বলেন, "আমাকে মান্ডি হাউস থেকে আটক করা হয় এবং সারা রাত (ভোর ৫টা পর্যন্ত) এখানে (থানায়) আটকে রাখা হয়। আপনারা (পুলিশ) কেন এই ধরনের বেআইনি আটক করছেন? দেশে দীর্ঘদিন ধরেই এসব ঘটছে এবং এই আন্দোলন স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছে যে, এ ধরনের আটক নিয়মিত ঘটছে। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁরা দাবি করেন যে তাঁরা আইন-শৃঙ্খলা মেনে চলেন এবং নিয়ম অনুযায়ী কাজ করেন, কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই ঘটছে না।" আইসা-র সভাপতি দীপকে-সহ আটক বা গ্রেপ্তার হওয়া সকল বিক্ষোভকারীকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বোরা বলেন, "এই আন্দোলনের সময় পুলিশ বেআইনিভাবে মানুষদের সন্ধ্যায় আটক করে পরদিন সকাল বা সন্ধ্যায় ছেড়ে দিচ্ছে। কোন আইনে এ ধরনের আটকের অনুমতি রয়েছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। অভিজিৎ দীপকে-সহ আটক সকল বিক্ষোভকারীকে মুক্তি দিতে হবে। এছাড়া মধ্য দিল্লিতে যে কারফিউ জারি করা হয়েছে, তাও তুলে নেওয়া উচিত।"
বামপন্থী এই নেত্রী আরও বলেন, "জ্ঞানেশ কুমার থেকে শুরু করে বিজেপি সরকার- সবারই উচিত তাদের অহংকার ত্যাগ করা। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ করা উচিত, অথবা তাঁকে ইমপিচ করে কারাদণ্ড দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে, যাতে দিল্লি ও ভারতের মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে।"
বোরা মুক্তি পাওয়ার পর আইসা জানিয়েছে, দেশজুড়ে ১২ ঘণ্টা ধরে চলা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ফলেই তার মুক্তি সম্ভব হয়েছে। এই কঠিন সময়ে যারা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সেই জনগণ ও গণমাধ্যমকে সংগঠনটি ধন্যবাদ জানিয়েছে।
আইসা জানিয়েছে, সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্বেগের কথা জানিয়েছে পুলিশ
শুক্রবার পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, কনট প্লেসের দিকে যাওয়ার পথে মান্ডি হাউস থেকে বোরাকে এবং ঝান্ডেওয়ালান থেকে দীপকে-কে পুলিশ আটক করে।
আইসার অভিযোগ, বোরাকে আটক করার পর পুলিশ তাঁকে দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে ঘোরায় এবং শেষ পর্যন্ত আরকে পুরম থানায় নিয়ে যায়।
সংগঠনটির দাবি, মধ্যরাতের দিকে আইনজীবীরা থানায় পৌঁছালেও তাদের বোরার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তাদের আরও অভিযোগ, পুলিশ তাকে কখন মুক্তি দেওয়া হবে সে বিষয়ে কিছু জানায়নি। এছাড়া বোরা গত কয়েক দিন ধরে অসুস্থ। যা জানা সত্ত্বেও পুলিশ তাঁকে প্রয়োজনীয় ওষুধ দিতে অস্বীকার করেছে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে তারা প্রায় ১৫০ জনকে আটক করেছে।
নিরাপত্তা কর্মীরা কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক এলাকা ঘিরে ফেলেছিল; পার্কের ভেতরে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) মোতায়েন করা হয় এবং ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়।
