পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের শক্ত ঘাঁটি খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি এবং প্রাদেশিক সরকার স্থগিতের ঘটনায় দেশটির রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্কুল বন্ধ, ইন্টারনেট সংযোগে বিধিনিষেধ, রাস্তায় কনটেইনার দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি এবং সেনা মোতায়েনের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, সন্ত্রাসবাদের হুমকি মোকাবিলা এবং প্রদেশের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার অভিযোগ করেছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় পিটিআই সরকার সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আঁতাত করছিল। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ দেননি।
কয়েক সপ্তাহ ধরে ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে হাজারো সমর্থক প্রদেশটিতে মিছিল ও পদযাত্রা করেছেন। এসব কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তার দল। তবে সরকার জানিয়েছে, তিনি নিরাপত্তামূলক হেফাজতে রয়েছেন।
বিক্ষোভ দমনে অভিযান চলার মধ্যে পিটিআইয়ের অনেক নেতা আত্মগোপন করেছেন। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর নিজ শহর বারা এলাকায় সমর্থকেরা বিক্ষোভ করলে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার খবর পাওয়া যায়। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ইমরান খানের তিন বোনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
সরকার বলছে, জরুরি অবস্থা জারির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ইমরান খানের সমর্থকদের আন্দোলন সীমিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তাদের আশঙ্কা, বিরোধী মতের জন্য রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হলে জনঅসন্তোষ আরও বাড়বে।
ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি। কয়েকটি দুর্নীতি মামলায় দ-িত এই নেতা অভিযোগ করে আসছেন, তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধের কারণেই তিনি ক্ষমতা হারিয়েছেন বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হয়।
