সাত দাবি আদায়ে আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সারাদেশে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনটির সভাপতি মো. সেলিম খান।
তিনি বলেন, “আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশের সব গ্যাসের দোকান বন্ধ থাকবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য গ্যাস বিক্রি বন্ধের কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
মো. সেলিম খান জানান, সংবাদ সম্মেলন চলাকালে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি-দাওয়াগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি সাত দাবি ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হলো:
১. জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, লাইসেন্স ফি বৃদ্ধি, লোড-আনলোড, অলস সিলিন্ডারের লোকসানসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়েছে। এসব খরচ বিবেচনায় বিইআরসি কর্তৃক ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দ করা কমিশন ৫০ থেকে ১৫০ টাকা অথবা ৭ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।
২. কোনো কোম্পানি মাসে একাধিকবার গ্যাসের দাম সমন্বয় করলে তা অবশ্যই বিইআরসির ঘোষণার মাধ্যমে করতে হবে।
৩. দীর্ঘদিন ধরে যেসব কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না, সেসব কোম্পানির সিলিন্ডার সরকারি উদ্যোগে অথবা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মাধ্যমে রিফিল করার ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. কোম্পানির সরবরাহ চালানে অবশ্যই পণ্যের প্রকৃত মূল্য উল্লেখ থাকতে হবে।
৫. যেসব কোম্পানি পরিবেশকের গোডাউনে গ্যাস পৌঁছে দিচ্ছে না, সেসব ক্ষেত্রে ন্যায্য গাড়িভাড়া দিতে হবে।
৬. গ্যাস সিলিন্ডার বহনকারী পিকআপ বা ট্রাকের সব কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও শুধু গাড়ির রেলিং-সংক্রান্ত কারণে ট্রাফিক পুলিশ মামলা করতে পারবে না।
৭. জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে অনৈতিক ও অযৌক্তিক জরিমানা আরোপ বন্ধ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান, সহসভাপতি মো. নাজির মোল্লা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির, সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক ফরিদ আহমেদ, অর্থ সম্পাদক আবু তাহের, দপ্তর সম্পাদক ইফতেখার সারোয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
