একটা সময় ছিল কলকাতার পুরসভার ভোটে প্রার্থী হওয়ার জন্য তৃণমূল ভবনে লাইন পড়ে যেত। নেতাদের ধরে টিকিট পাওয়ার জন্য নেত্রীর কাছে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা হত। পার্টি অফিসে বায়োডাটার পাহাড় জমত। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর বদলে গিয়েছে ছবিটা। কলকাতা শহরে তৃণমূলের নাম ও নিশান সত্যি সত্যিই চোখে পড়ে না। নেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও ছবিও। লাগাতার হামলা, ধরপাকড়ের জেরে শহরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে অনেক দূরে তৃণমূল কর্মীরা। বহু এলাকায় পার্টি অফিস বন্ধ। কর্মীরাও এলাকা ছাড়া। অবস্থা বেগতিক বুঝে বসে গিয়েছেন অনেকেই। তার মধ্যে দলে ভাঙন ধরায় অনেকেই নাম লিখিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিবিরে। ঠিক এমনই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে কীভাবে পুরভোটে লড়াই হবে তা নিয়ে রীতিমতো চিন্তিত মমতা শিবির।
একটা সময় কলকাতা ছিল সবুজ দুর্গ। ১৫টি বিধানসভা, চারটি লোকসভা ক্ষেত্র ছুঁয়ে থাকা এলাকা ছিল তৃণমূলের দখলে। কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩৪টি ছিল তৃণমূলের হাতে। বিজেপির মাত্র তিনটি। পাঁচ বছর আগে তৃণমূল যেখানে প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষের সমর্থন পেয়েছিল, সেখানে বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ২ লক্ষ ৪১ হাজার ভোট। কিন্তু এখন আর সেই ছবি নেই।
কলকাতার ওয়ার্ড ১৪৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০৯। ভোটে হারের পর পদত্যাগ করে শতাধিক কাউন্সিলর বাড়িতে বসে গিয়েছেন নতুবা অন্য শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। ফলে বলা যায়, ২০৯-এর মধ্যে ৯০ শতাংশ আসনে এবার নতুন প্রার্থী দিতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূলকে। আপাতত যা খবর, পুজোর পর কলকাতা পুরসভায় ভোট হবে। কলকাতা দখল করতে বিজেপি সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছে। বলাবাহুল্য, তাদের খুশিমতো আসন পুনর্বিন্যাস হয়েছে। কারা কারা প্রার্থী হবে, সেই তালিকা তৈরি করার কাজ চলছে মুরলীধর লেনে। উল্টোদিকে, সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি কালীঘাট শিবিরে। উপনির্বাচনের অভিজ্ঞতা তৃণমূল নেতৃত্বকে ভাবিয়ে তুলেছে। যেভাবে নন্দীগ্রামে প্রার্থী দাঁড়ানোর পরও নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে, তা রীতিমতো তাৎপর্যপূর্ণ। উল্টোদিকে, রেজিনগরেও প্রার্থী নামকেওয়াস্তে দাঁড়িয়েছিলেন। সেভাবে প্রচারের নামেননিই। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, শাসকদল বিজেপি ভয় দেখিয়ে তাদের প্রার্থীদের হয় উইড্রো করিয়েছে নতুন কর্মীদের প্রচারে নামতে দেয়নি। পুরভোটেও যাঁরা প্রার্থী হবেন, কতক্ষণ তাঁরা লড়াইয়ে থাকতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয়ে মমতা শিবির। একই সঙ্গে সাহস করে প্রার্থী হতে কতজন এগিয়ে আসবেন তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
যদিও কালীঘাট তৃণমূল সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত যে যে ওয়ার্ডগুলিতে সাংগঠনিক প্রক্রিয়া চালু আছে, সেখানে প্রার্থী চয়নের কাজ শুরু হয়েছে। ছোট ছোট বৈঠক হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের দরজা খুলে দিতে চায়। বামপন্থী দলগুলি যদি জোট চায়, তাতেও তারা প্রস্তুত। কিন্তু তেমন পরিস্থিতি এখনই হওয়া খুব শক্ত বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। একটা সময় কলকাতা ছিল সবুজ দুর্গ। ১৫টি বিধানসভা, চারটি লোকসভা ক্ষেত্র ছুঁয়ে থাকা এলাকা ছিল তৃণমূলের দখলে। কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩৪টি ছিল তৃণমূলের হাতে। বিজেপির মাত্র তিনটি। পাঁচ বছর আগে তৃণমূল যেখানে প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষের সমর্থন পেয়েছিল, সেখানে বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ২ লক্ষ ৪১ হাজার ভোট। কিন্তু এখন আর সেই ছবি নেই। গত ভোটে কলকাতার চারটি বিধানসভা বাদ দিলে সবই বিজেপির দখলে। সব মিলিয়ে এই নেতিবাচক পরিস্থিতি সামলে কীভাবে লড়াই করবেন মমতা, তা এখন দেখার।
