ভাগ্নের চিকিৎসা করাতে দিল্লি গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন এক প্রাক্তন সেনাকর্মী! সেই ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছ়ড়িয়ে পড়তেই তা ভাইরাল হয়েছে। একইসঙ্গে দিল্লি পুলিশের কার্যপদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন অনেকে। দেশের রাজধানীতে রোগী এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি পুলিশের আচরণের বিষয়টি তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীরা। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আটক ওই ব্যক্তি বলেন, “আমি একজন প্রাক্তন সেনাকর্মী। প্রায় ৩০ বছর সেনাবাহিনীতে চাকরি করেছি। দিল্লি পুলিশ ভেবেছে আমি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভকে সমর্থন করতে এখানে এসেছি। তাই আমাকে আটক করা হয়েছে।”
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, আটক ওই প্রাক্তন সেনাকর্মী দিল্লি এসেছিলেন তাঁর ভাগ্নের চিকিৎসার জন্য। তিনি জানিয়েছিলেন, ভাগ্নের কিডনি বিকল হওয়ায় চিকিৎসা করাতে তাঁকে দিল্লি নিয়ে আসেন। ঘটনাক্রমে সেই দিনই রাজধানীতে ছিল ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচি। আটক ব্যক্তির দাবি, “দিল্লি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে এসেছে। আমি আমার ভাগ্নের চিকিৎসার জন্য দিল্লি এসেছি। ও কিডনির সমস্যায় ভুগছে। কিন্তু আমাকে আটক করা হয়েছে। এমনকি আমার ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়েছে।” তাঁর বক্তব্যের প্রমাণস্বরূপ হাতে থাকা হাসপাতালের কিছু কাগজপত্রও দেখান ওই ব্যক্তি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র সমালোচনা করে বিরোধী দল কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। কংগ্রেসের তরফে এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে বলা হয়, “দিল্লি পুলিশ আটকের খেলায় মেতেছে। সারা শহর জুড়ে বিনা কারণে তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, আইনজীবী এবং বিষয়স্রষ্টাদের আটক করা হচ্ছে। এটি একনায়কতন্ত্র। সরকার এখন জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে। মোদীর লক্ষ্য একটাই, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা এবং জনগণকে দাসত্বের শিকলে বেঁধে ফেলা। কিন্তু কংগ্রেস তা হতে দেবে না। গণতন্ত্র, সংবিধান এবং প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় আমরা সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাব।”
অন্য দিকে, সমাজবাদী পার্টির তরফে পোস্টে লেখা হয়, “একবার ভেবে দেখুন, এখানে কতটা অন্ধ এবং স্বৈরাচারী মনোভাব কাজ করছে। বিজেপি সরকার এমন এক খেলা খেলছে যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে তারা কান্নায় ভাসিয়ে দিচ্ছে, হয়রান করছে এবং তাঁদের জীবন পুরোপুরি ধ্বংস করে দিচ্ছে।’’
