কৃষক কার্ড-ফ্যামিলি কার্ড-পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নে সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ১৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতাল এবং পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের অব্যাহত সমর্থন চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দায়িত্ব দেশের জনগণকেই নিতে হবে।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে (হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ) আয়োজিত জনসভায় আখচাষিদের মধ্যে প্রণোদনার অর্থ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের সাত দিনের মধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে, যাতে উপকৃত হয়েছেন ১৩ লাখ কৃষক। এ বছর ৪০ লাখ ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের সার, বীজ, কীটনাশক, ফসলের বিমা ও সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তির সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে পানিসংকট নিরসন ও কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে রাজশাহীসহ আশপাশের প্রায় ১৪টি জেলার মানুষ উপকৃত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে শিশু, নারী ও কিডনি রোগীদের জন্য বিশেষ চিকিৎসাসুবিধা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বন্ধ কলকারখানা চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরই মধ্যে ছয়টি বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও প্রায় ৪৬টি কারখানা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মাসিক আর্থিক সহায়তা এবং মেয়েদের অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে জনসভা থেকে রাজশাহী ও নাটোরের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য মোট ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বরাদ্দের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে ডিজিটাল বোতাম চেপে একযোগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সমস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করেন জনসভাস্থলে উপস্থিত হাজারো মানুষ।
এর আগে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে সড়কের দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষ তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে তাঁদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে তিনি জনসভাস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা তাঁকে উষ্ণ স্বাগত জানান।
জনসভায় সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সংবাদ: প্রধানমন্ত্রী
৪১ মিনিট আগে
২ ঘন্টা আগে
৩ ঘন্টা আগে
