Published on
:
2 min read
রাত পোহালেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। ঘরে ঘরে শুরু হয়ে গিয়েছে পুজোর প্রস্তুতি। আর পুজো মানেই ফুলের সাজ। পদ্ম থেকে গাঁদা, রজনীগন্ধা থেকে গোলাপ — পুজোর উপকরণ কিনতে বাজারে ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ। তবে এ বার ফুল কিনতে গিয়ে খুব বেশি পকেটে টান পড়ছে না ক্রেতাদের। জেলার বিভিন্ন বাজারে ফুলের জোগান ভালো। দামও রয়েছে মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে। ফলে এক দিকে যেমন স্বস্তিতে মধ্যবিত্ত। তেমনই ফুল বিক্রি করতে পেরে খুশি চাষিরাও।
ফুলের বাজারে এই স্বস্তির অন্যতম কারণ এ বছর উৎপাদনে বড়সড় ঘাটতি না থাকা। সারা বাংলা ফুলচাষি ও ফুলব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র নায়েকের কথায়, ‘চলতি বছরে ফুলচাষের সঙ্গে যুক্ত জেলাগুলিতে তেমন বন্যা হয়নি। ফলে পুজোর মরশুমে ফুলের উৎপাদনও ভালো হয়েছে। বাজারে জোগান থাকায় দামও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
তবে দুর্গাপুজো আর লক্ষ্মীপুজোর ফুলের বাজারের ছবিতে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। দুর্গাপুজোয় পদ্মের দাম স্বাভাবিক থাকলেও অন্যান্য ফুলের দাম তুলনায় কিছুটা বেশি ছিল। তবে লক্ষ্মীপুজোর আগে সেই চাপ অনেকটাই কমেছে বলে জানা গিয়েছে। শনিবার কোলাঘাট, দেউলিয়া, কেশাপাট-সহ জেলার বিভিন্ন ফুলবাজারে ঘুরে দেখা গিয়েছে, বেশির ভাগ ফুলই বিক্রি হচ্ছে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই।
কত দাম কোন ফুলের? ফুলব্যবসায়ীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, কোলাঘাট, দেউলটি-সহ একাধিক বাজারে একটি টাটকা পদ্ম বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ টাকায়। রজনীগন্ধার ঝুরো ফুলের দাম কিলোপ্রতি প্রায় ৪০০ টাকা। ২৪টি রজনীগন্ধার স্টিকের বান্ডিল মিলছে ২৫০ টাকায়। ১ পিস গোলাপের দাম সাড়ে ৩ টাকা। অপরাজিতা বিক্রি হচ্ছে কিলোপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। দোপাটির দাম কিলোপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা।
গাঁদার দামও রয়েছে মোটের উপর নাগালের মধ্যে। লাল গাঁদার ঝুরো ফুল কিলোপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। বাসন্তী গাঁদার দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা কিলো। আর তিন ফুটের একটি লাল গাঁদার মালা কিনতে খরচ হচ্ছে ১০ থেকে ১২ টাকা। একই মাপের বাসন্তী গাঁদার মালার দাম ১৫ থেকে ১৮ টাকা।
দেউলটি বাজারের ফুলব্যবসায়ী গণেশ মাইতি, কোলাঘাট ফুলবাজারের বিশ্বজিৎ নায়েক ফুলবাজারের আনন্দ সামন্তদের কথায়, এ বার ফুলের জোগান ভালো থাকায় বিক্রিবাটাও সন্তোষজনক। উৎপন্ন ফুল বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ফুল ফেলে দিতে হচ্ছে না। চাষিদের কাছে এটাই বড় স্বস্তি। কারণ, ফুল চাষ করে বাজারে নিয়ে আসার পরে তা বিক্রি না হলে লোকসানের আশঙ্কা থাকে। এ বার সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই কম।
ক্রেতাদের মুখেও স্বস্তির হাসি। বিমল সামন্ত নামে এক ক্রেতার কথায়, গত বছর ফুলের দাম অনেকটাই বেশি ছিল। সেই তুলনায় এ বার দাম কিছুটা কম। ফলে পুজোর জন্য প্রয়োজনীয় ফুল কিনতে সুবিধা হচ্ছে।
