কক্সবাংলা ডটকম(১৯ অক্টোবর) :: শেষ হলো অর্থনীতিবিষয়ক সম্মেলনের সবচেয়ে বড় আসর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গত ১২ অক্টোবর শুরু হওয়া এ সভা শেষ হয়েছে গতকাল রোববার।
এ সভায় চার বড় প্রাপ্তি থাকলেও কঠিন শর্তে আইএমএফের নতুন ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ। শিগগির আইএমএফ কর্মকর্তারা যাচ্ছেন ঢাকা।
ব্যাংকিং খাতের সংস্কার থেকে শুরু করে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, ভর্তুকি কমানো ছাড়াও আসতে পারে বেশকিছু শর্ত। তবে অর্থনীতি সচল রাখতে কঠিন শর্তেও ঋণ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর এই চুক্তি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে হতে যাচ্ছে বলেও নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
গতকাল শেষ হওয়া বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সাধারণ সভায় জ্বালানি সংকট দূর করতে বিশ্বব্যাংকের কাছে তিন বছরে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই বিষয়ে বিশ্বব্যাংক ইতিবাচক বলে জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ ছাড়া আইএমএফের সঙ্গে প্রায় ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে; কিন্তু দুটি ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের বিষয়টি এখনো আলাদা। দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত হয়েছে।
ব্যাংক খাতের পুনঃমূলধনীকরণে আইএফসির আগ্রহ, বেসরকারি পুঁজি সংযুক্ত করার বৈশ্বিক উদ্যোগ এবং থাইল্যান্ডের সঙ্গে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালাল খাদ্য, শিল্প ও যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনা ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনাকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দিতে পরবর্তী উদ্যোগ প্রয়োজন। তৃতীয়ত, সংস্কার ও বাস্তবায়নের চাপ আরও স্পষ্ট হয়েছে।
রাজস্ব আয় বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা কাটানো, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং কর্মসংস্থানমুখী বিনিয়োগ বাড়ানো এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি ছাড়া আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই সভা ঘিরে আলোচনা, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও বিনিয়োগ-সম্ভাবনা অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে পেরেছে। বিশ্বব্যাংকের বেসরকারি খাতে অর্থায়ন বাড়ানোর উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যাংকিং ও রাজস্ব খাতের সংস্কার নিয়ে আলোচনা এবং থাইল্যান্ডের সঙ্গে যৌথ উৎপাদন ও বাণিজ্যের সম্ভাবনা এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
তবে এ সভা থেকে বাংলাদেশের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বড় নতুন ঋণ বা অনুদান প্যাকেজ ঘোষণার তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সভার তাৎপর্যকে তাৎক্ষণিক অর্থপ্রাপ্তির চেয়ে ভবিষ্যৎ অর্থায়ন, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক গ্রুপের এই সভায় বাংলাদেশের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল উন্নয়ন অর্থায়নের প্রচলিত কাঠামোর বাইরে বেসরকারি পুঁজি আকর্ষণের সুযোগ খোঁজা।
সরকারি ঋণ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া বড় অবকাঠামো, শিল্পায়ন, জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং কর্মসংস্থানের চাহিদা পূরণ কঠিন। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আলোচনায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে ঝুঁকি কমানো, বিনিয়োগের নিশ্চয়তা, ঝুঁকি ভাগাভাগি এবং স্থানীয় মুদ্রায় অর্থায়নের মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
এসব ব্যবস্থা কার্যকর হলে বিনিয়োগকারীদের কাছে উন্নয়নশীল দেশের প্রকল্পগুলো তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নীতিগত অনিশ্চয়তা, বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি, অর্থায়নের ব্যয় এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বড় বাধা। এসব ঝুঁকি কমাতে উন্নয়ন সহযোগীরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবহন, শিল্প, প্রযুক্তি এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামোয় বিনিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে।
তবে বিশ্বব্যাংকের এই বৃহত্তর উদ্যোগকে বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত অর্থায়ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সভায় আলোচিত বৈশ্বিক উদ্যোগের সঙ্গে বাংলাদেশের নির্দিষ্ট প্রকল্প, অর্থের পরিমাণ কিংবা বাস্তবায়নের সময়সীমা যুক্ত করে কোনো নতুন চুক্তির ঘোষণা পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ সম্ভাবনার দরজা খুললেও সেখান থেকে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে প্রকল্প প্রস্তুতি, সংস্কার ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে এগোতে হবে।
সভা শুরুর প্রথম দিনেই বাংলাদেশের অর্থায়ন-সংক্রান্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোর একটি ছিল বিশ্বব্যাংকের কাছে আগামী তিন বছরে নিয়মিত সহায়তার বাইরে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি ডলারের ঋণ চাওয়া।
জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, ভর্তুকির চাপ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে এই অর্থ চেয়েছে সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করে।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারের ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। এই চাপ মোকাবিলায় আগামী দুই থেকে তিন বছরের জন্য একটি আর্থিক সুরক্ষাবলয় তৈরিতে বিশ্বব্যাংক সহায়তা করতে পারে।
এ লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে তিন বছর মেয়াদি কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ) চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এই কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের ভবিষ্যৎ সহায়তার ক্ষেত্র ও পরিকল্পনা নির্ধারিত হবে। আলোচনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদলের ঢাকায় আসার কথাও জানানো হয়েছিল।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ১০ বিলিয়ন ডলারের বিষয়টি অনুমোদিত ঋণ নয়, এটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে করা অতিরিক্ত অর্থায়নের অনুরোধ। কত অর্থ, কী শর্তে এবং কোন সময়সূচিতে পাওয়া যাবে, তা নির্ধারণে আলোচনা ও সমঝোতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এখানে বাংলাদেশের জন্য দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, বৈদেশিক অর্থায়ন পেলে জ্বালানি ব্যয় ও বাজেটের ওপর চাপ সামলানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ঋণের পরিমাণ, সুদ, পরিশোধের সময়সীমা এবং অর্থ ব্যবহারের শর্ত বিবেচনা করে এর প্রকৃত অর্থনৈতিক সুফল নির্ধারিত হবে।
আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনাও ছিল বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। সরকারের লক্ষ্য প্রায় ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য ঋণ কর্মসূচির শর্তগুলো নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো এবং সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সরকার একসঙ্গে অনেকগুলো সংস্কার কার্যকর করার পরিবর্তে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পক্ষে। অর্থাৎ সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করতে চাইলেও কোন সংস্কার কখন এবং কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গত ১৫ অক্টোবর ব্যাংককে আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে। ব্যাংকিং খাত, কর-জিডিপি অনুপাত এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কিছু বিষয়ে আইএমএফের উদ্বেগ থাকলেও আলোচনা অব্যাহত থাকবে। এই অগ্রগতির অর্থ হলো, বাংলাদেশ ও আইএমএফের মধ্যে নতুন কর্মসূচির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে।
তবে সভা চলাকালে নতুন ঋণ কর্মসূচির চূড়ান্ত অনুমোদন বা অর্থ ছাড়ের ঘোষণা পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের জন্য এ কর্মসূচির তাৎপর্য শুধু বৈদেশিক অর্থপ্রাপ্তিতে সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা হলে বৈদেশিক অর্থায়নের ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক নীতির বিশ্বাসযোগ্যতা এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিপরীতে, শর্ত পূরণে ব্যর্থতা বা দীর্ঘ আলোচনার কারণে অর্থায়ন পিছিয়ে গেলে প্রত্যাশিত সুফল পেতে দেরি হতে পারে।
আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক গ্রুপের এই সভায় বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা কাটানোও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে। ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং আমানতকারীদের আস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বেসরকারি খাতবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর পুনঃমূলধনীকরণে সহায়তার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
এ ক্ষেত্রে বেসরকারি ইকুইটি বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক সাড়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এটি বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় একটি দিক। কারণ, সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণ ও আর্থিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে শুধু সরকারি অর্থের ওপর নির্ভর করলে বাজেটের ওপর বড় চাপ তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হলে সেই চাপ ভাগ করে নেওয়া সম্ভব হতে পারে।
তবে এখানে আগ্রহ প্রকাশ এবং বাস্তব বিনিয়োগের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কোন ব্যাংকে কত অর্থ বিনিয়োগ হবে, কী শর্তে হবে এবং বিনিয়োগের বিপরীতে ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনে কী পরিবর্তন আসবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। ব্যাংক খাতে অর্থায়নের পাশাপাশি খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা, ঋণ আদায়, পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহি, আর্থিক প্রতিবেদন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোও জরুরি। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি না হলে নতুন মূলধনও দীর্ঘ মেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারবে না।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকটের অন্যতম বড় দিক হচ্ছে বিনিয়োগের গতি বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি। ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের আলোচনায়ও কর্মসংস্থানকে উন্নয়ন কৌশলের কেন্দ্রে রেখেছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের হিসাবে, উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে প্রবেশ করবেন। বিপরীতে, একই সময়ে প্রায় ৪২ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। অর্থাৎ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কর্মসংস্থানের সম্ভাব্য ব্যবধান বড়।
এই বৈশ্বিক বাস্তবতা বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থানে যুক্ত করতে হলে শুধু সরকারি চাকরির ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়। উৎপাদনশীল শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, প্রযুক্তি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানিমুখী ব্যবসায় নতুন বিনিয়োগ প্রয়োজন। বাংলাদেশের অর্থায়ন আলোচনায় ব্যাংক খাতের সক্ষমতা, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের ভূমিকা তাই পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।
ব্যাংকগুলো কার্যকরভাবে ঋণ দিতে পারলে এবং বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানো গেলে নতুন ব্যবসা গড়ে ওঠার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগও প্রয়োজন। তবে শুধু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কর্মসংস্থানের লক্ষ্য অর্জন করা যাবে না। প্রকল্প বাস্তবায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর মতো বিষয়েও অগ্রগতি প্রয়োজন। বাংলাদেশের জন্য বৈদেশিক অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মনে করে আইএমএফ।
ব্যাংককে আইএমএফের আলোচনায় বৈশ্বিক ঋণ, উচ্চ সুদহার, মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানির বাজারে অস্থিরতার ঝুঁকি গুরুত্ব পেয়েছে। আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগের সম্ভাব্য অস্থিরতা, ভূরাজনৈতিক সংঘাত এবং জ্বালানির দামের ধাক্কাও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি হিসেবে উঠে এসেছে।
