
চিকিৎসাসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার
চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), টেলিমেডিসিন, রোবোটিক সার্জারি ও জিনোমিক্সের মতো প্রযুক্তির প্রয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
সোমবার ঢাকার নীলক্ষেতে জাতীয় উন্নয়ন ও পরিকল্পনা একাডেমি (এনএপিডি) আয়োজিত বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের ১৩৮তম ও ১৩৯তম বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। দুই কোর্সে মোট ৮০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও ওষুধের ব্যবস্থাপত্র তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে। রোবোটিক প্রযুক্তি অস্ত্রোপচারকে আরও নিখুঁত করছে এবং জিনোমিক্সের অগ্রগতি ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসার পথ উন্মুক্ত করছে। এসব প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সম্পর্কে চিকিৎসকদের নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু বিশ্বের অগ্রগতি অনুসরণ করলেই হবে না, নিজেদেরও নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে হবে। একজন সরকারি চিকিৎসক তাঁর কর্মজীবনে নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি, স্বাস্থ্যসেবার মডেল, ডিজিটাল সমাধান কিংবা ব্যবস্থাপনাগত উদ্ভাবন নিয়ে আসতে পারলে তার সুফল কোটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।
প্রশিক্ষণার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, চিকিৎসকদের প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখা, গবেষণা করা এবং তথ্য-উপাত্তের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার সফলতা ও ব্যর্থতা—দুটিই বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করা সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুখী, সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে সরকারি কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এমন জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে অর্থের অভাবে কেউ চিকিৎসাবঞ্চিত হবেন না এবং প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে।
স্বাস্থ্য খাতে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বর্তমান সরকার বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখেছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপজেলা পর্যায়ে ৩০ শয্যার হাসপাতালের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আগামী কয়েক বছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও সহজে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাঁদের যেন শহরমুখী হতে না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এনএপিডির অতিরিক্ত মহাপরিচালক সায়মা আফরোজ। পরে উপদেষ্টা প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন এবং পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
জাতীয় উন্নয়ন ও পরিকল্পনা একাডেমির মহাপরিচালক মো. খায়রুল কবির মেননের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে একাডেমির অনুষদ সদস্য ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
