চট্টগ্রামে অপহরণ ও ডাকাতি মামলায় এক পুলিশ কনস্টেবলসহ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও নগরীর পাহাড়তলী থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে খুলশী থানা পুলিশ।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতি করে নিয়ে যাওয়া একটি এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটিসহ মোট তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার তাদের সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার জোটপুকুরিয়া দক্ষিণ কাঞ্চনা এলাকার হিমাংশু ডাক্তারের বাড়ির গৌতম দাশের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল অনিক দাশ, নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার পাঠানপাড়া এলাকার মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে ওয়াহিদ মোহাম্মদ জেবল হোসেন ওরফে অনিক ওয়াহিদ, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর হাফিজুর রহমান মিস্ত্রির বাড়ির আবু আহম্মেদের ছেলে মহিউদ্দিন সেলিম ও নগরীর ১১নং দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডের ছিদ্দিক কমিশনারের বাড়ির নাছির উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ ওয়াহিদ নাসির ওরফে ডায়মন্ড। এর মধ্যে পুলিশ কনস্টেবল অনিক দাশ বান্দরবান জেলা পুলিশ লাইন্সে কর্মরত।
অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া খুলশী থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই গোলাম মোহাম্মদ নাসিম হোসেন বলেন, আসামিরা গত শনিবার রাতে খুলশী থানাধীন জাকির হোসেন রোডের চক্ষু হাসপাতালের সামনে মোটরসাইকেল আরোহী মাহফুজুর রহমান অপু নামে এক যুবককে গতিরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে ওই যুবককে জোর করে একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেয় এবং মোটরসাইকেলটিও নিয়ে যায়।
একপর্যায়ে গভীর রাতে ওই যুবকের মোবাইল ফোনটিও রেখে গাড়ি থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে চলে যায় তারা। পরে আসামিরা মোটরসাইকেল বিক্রির জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিলে সেটি ভিকটিমের চোখে পড়ে। কৌশলে মোটরসাইকেলটি কিনতে গিয়ে অনিক দাশকে আটক করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যে আরও তিনজনকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় ৫ জনকে আসামি করে থানায় অপহরণ ও ডাকাতি মামলা দায়ের হয়েছে; যার মধ্যে একজন পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার উদ্ধারে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে।